
ইনভেস্ট বাংলাদেশ চীনা ব্যাংকগুলোকে বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করার আহ্বান জানিয়েছে
বেইজিংয়ে বাংলাদেশে সরাসরি কার্যক্রম পরিচালনা করছে না—এমন চীনা ব্যাংকগুলোর দেশে উপস্থিতি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ইনভেস্ট বাংলাদেশ। সংস্থাটির মতে, চীনা ব্যাংকের উপস্থিতি বাড়লে দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগে আর্থিক সংযোগ জোরদার হবে এবং বিনিয়োগকারীদের অর্থায়ন পাওয়া সহজ হবে।
ইনভেস্ট বাংলাদেশ ও এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংক অব চায়নার—চায়না এক্সিম ব্যাংকের যৌথ উদ্যোগে মঙ্গলবার চায়না এক্সিম ব্যাংকের সদরদপ্তরে ‘বাংলাদেশ ডে’ অনুষ্ঠানে এই বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংক ও ইনভেস্ট বাংলাদেশ যৌথভাবে ‘দ্য নেক্সট ফ্রন্টিয়ার—বাংলাদেশ-চায়না ফাইন্যান্সিয়াল কানেক্টিভিটি’ শীর্ষক উপস্থাপনা করে।
উপস্থাপনায় বলা হয়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১৯ বিলিয়ন ডলার। তবে বাংলাদেশে এখনো কোনো চীনা ব্যাংক সরাসরি কার্যক্রম পরিচালনা করছে না। উপস্থাপনায় আরও জানানো হয়, বাংলাদেশের সঙ্গে তুলনীয় বা কম বাণিজ্যের দেশ কম্বোডিয়া, শ্রীলঙ্কা ও মিয়ানমারেও চীনা ব্যাংক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিনিয়োগ খাত, চাইনিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন এবং মোংলা অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের সুযোগ তুলে ধরা হয়। চীনা কোম্পানি ও তাদের অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান কীভাবে এসব সুযোগে যুক্ত হতে পারে, তা নিয়েও আলোচনা হয়।
অনুষ্ঠানে চীনের ১১টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। এর মধ্যে ছিল ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড কমার্শিয়াল ব্যাংক অব চায়না, অ্যাগ্রিকালচারাল ব্যাংক অব চায়না এবং ব্যাংক অব চায়না। উপস্থাপনায় উল্লেখ করা হয়, সম্পদের হিসাবে বিশ্বের চার বৃহত্তম ব্যাংকের মধ্যে এই তিনটির নাম রয়েছে।
এছাড়া অবকাঠামো ও প্রকৌশল, বিদ্যুৎ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিক্স, স্মার্ট ও শিল্পপ্রযুক্তি, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি, ভোক্তা ইলেকট্রনিক্স এবং কৃষিপ্রযুক্তি খাতের ২৬টি চীনা কোম্পানি অনুষ্ঠানে অংশ নেয়।
ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, “বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতার পরের ধাপ হল আর্থিক সংযোগ স্থাপন।” তিনি জানান, বাংলাদেশে বিনিয়োগকারী চীনা কোম্পানিগুলোর সহজ ও কার্যকর বাণিজ্য অর্থায়ন, যন্ত্রপাতি কেনার অর্থায়ন, চলতি মূলধন এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে।
চৌধুরীর মতে, বাংলাদেশে চীনা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের উপস্থিতি বাড়লে দুই পক্ষই উপকৃত হতে পারে এবং বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত বাস্তবে রূপ দেওয়া সহজ হবে। তিনি বাংলাদেশি কোম্পানিগুলোর প্রযুক্তি, ব্যবসা ও উৎপাদন বাড়ানোর উপযোগী অংশীদারত্বের প্রয়োজনও উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগে চায়না এক্সিম ব্যাংকের ভূমিকা নিয়ে একটি উপস্থাপনাও দেওয়া হয়। ব্যাংকটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ওয়াং কাং বলেন, বাংলাদেশে অবকাঠামো, জ্বালানি, কৃষি, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও উৎপাদনশিল্পসহ বিভিন্ন খাতে ব্যাংকটির প্রায় ৪০টি প্রকল্প রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পণ্য ও স্বাস্থ্যসেবার মতো অগ্রাধিকার খাতে আরও বেশি শীর্ষস্থানীয় চীনা কোম্পানিকে সরাসরি বিনিয়োগে উৎসাহিত করা হবে, যাতে অর্থায়ন বাংলাদেশের উৎপাদন ও সেবামুখী অর্থনীতির বিকাশে ধারাবাহিক ভূমিকা রাখতে পারে।
চীনে নিয়োগ করা বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. নাজমুল ইসলাম অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক : সুজন মাহমুদ মোবাইল: 01713915888
নির্বাহী পরিচালক মোঃ আনিছুর রহমান মোবাইল: 01714236204
Copyright © 2026 sbtv24. All rights reserved.