
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বান্দরবানের লামা উপজেলায় অবস্থিত মিরিঞ্জা পর্যটন ভ্যালি, পাহাড়, নদী, ঝর্ণা ও বনভূমির সুন্দর সংমিশ্রণার জন্য ভ্রমণপিয়াসীদের মধ্যে জনপ্রিয় একটি গন্তব্য। এই অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১ হাজার ৪০০ ফুট উঁচু ভিত্তিতে গড়ে ওঠা এই ভ্যালি, বাংলাদেশ-কক্সবাজারের সীমারেখার কাছাকাছি অবস্থিত।
বহরঙ্গে, শরদের নীল আকাশ, সবুজে ভরা প্রাকৃতি, সারিবাঁধা পাহাড়, মেঘ ও কুয়াশার লুকোচুরি, প্রমত্তা মাতামুহুরী নদীর সৌন্দর্য ও ঢাকার রাজধানী থেকে গন্তব্য পর্যন্তের সহজ যাত্রার সুবিধা এই ভ্যালির প্রধান আকর্ষণ। প্রতিবছর ঈদ‑পূজা ও শরদী দুর্গাপূজা উৎসবের দীর্ঘ ছুটি期间, লামার মিরিঞ্জা ও সুখিয়া ভ্যালিতে ভ্রমণকারীর ভিড় লক্ষণীয় হয়, হোটেল‑মোটেলে সিট‑রুমের সংকট দেখা দিতে পারে।
নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে লামা উপজেলা প্রশাসন, লামা থানা, সেনাবাহিনী, চিকিৎসা দল, ফায়ার সার্ভিস, তথ্য কেন্দ্র এবং পুলিশের একাধিক দল সংযুগে ভ্রমণকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কাজ করছে। এই সংস্থাগুলির সভা অনুযায়ী, ভ্রমণকারীদের দর্শনীয় স্থানসমূহে চিকিৎসা, ফায়ার, তথ্য ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা Verfügungিত করা হচ্ছে।
**স্থান ও আকার**
মিরিঞ্জা ভ্যালি বাংলাদেশের দক্ষিণ‑পূর্বাঞ্চলের জেলা বান্দরবানয় লামা উপজেলার অংশ, কক্সবাজারের চকরিয়া থেকে আলীকদম সড়কে লামার দিকে। এই উপজেলার প্রধান পর্যটনকেন্দ্র নৈসর্গিক সৌন্দর্যে ভরপুর মিরিঞ্জা ভ্যালি, যা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১ হাজার ৪০০ ফুট উঁচু। ২০১০ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর গোড়াপত্তন হয়েছিল ৩৩ একর পাহাড়ি ভূমি ঘিরে, যা ভ্যালির বฒিততর চরিত্র রচনায় সহায়তা করেছিল। ২০১১ সালের ১৯ এপ্রিলে টাইটানিক জাহাজের কাঠামো (ভাস্কর্য) নির্মাণের উদ্বোধন হয়, যা ভ্যালির অনন্য আকর্ষণ হিসেবে চিহ্নিত করা গেছে।
**যাত্রার পথ**
ঢাকা থেকে মিরিঞ্জা ভ্যালি যাওয়ার জন্য প্রথমে রাজধানী থেকে কক্সবাজার বাসে যাওয়া প্রয়োজন। বাসের পরে চকরিয়া বা চিরিঙ্গা বাস টার্মিনালে গন্তব্য পৌঁছানো যায়। বিকল্পভাবে, ঢাকার রাজারবাগ, ফকিরাপুল বা সায়েদাবাদ থেকে কক্সবাজার বাস, অথবা ঢাকার সরাসরি ফ্লাইট (৪৫‑৫০ মিনিট) ব্যবহার করে কক্সবাজার পৌঁছানো যায়, তারপর ৪৫‑৫০ মিনিটের বাসযাত্রা করে চকরিয়া পৌঁছানো যায়। চকরিয়া থেকে লামা‑আলীকদম সড়ক ধরে সিএনজি, জিপগাড়ি বা লোকাল বাসে ভ্যালির পাশে নামিয়ে যাওয়া যায়, তারপর ১০ মিনিট হাঁটা হালকা দূরত্বে ভ্যালি পৌঁছানো যায়।
ট্রেকিং ইচ্ছুককারীদের জন্য চান্দের গাৗ থেকে মuruম পায়া পর্যন্ত ২০ মিনিটের সহজ ট্রেকিং পথ আছে, যা মিরিঞ্জা পাহাড়ের পাশে নামিয়ে দেয়।
**দেখানো জিনিস**
পাহাড়ের রাস্তা বা ঝিরিপথে চলা হলে চূড়ান্ত দৃশ্যে মেঘলা পর্যটন কমপ্লেক্স, মাতামুহুরী নদী, বিস্তৃত সবুজ বনভূমি, সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের দৃশ্য, কক্সবাজার অংশের বঙ্গোপসাগরের উত্তাল জলরাশি এবং লাইট হাউসের দৃশ্য দেখা যায়। পাহাড়ের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত টাইটানিক জাহাজের কাঠামো ভ্লুকে অনন্য আকর্ষণ হিসেবে গড়ে যায়। স্থানীয় স্তরয়ে মৃদু, ত্রিপুরা, মারমা ও মোট ১১ জনগোষ্ঠীর বসবাস।
**আবস্থা ও সুবিধা**
বাঁশ ও খড়ের মাছাং, জুম ঘর, তাবু ঘর, এবং পরিবারের জন্য AC ও নন‑AC কটেজ, র্যাটে ক্যাম্পিংয়ের সুবিধা উপলব্ধ। ভ্রমণের সময় খাবারের ও পানির ব্যবস্থা নেই; সুতরাং শুকনো খাবার ও পানি সঙ্গে রাখা উচিত। কমপ্লেক্সের ভিতরেই খোলা আকাশের নিচে তাবু ঘর ও রেস্টুরন আছে, যেখানে চিকেন ফ্রাই, বিরিয়ানি ও অন্যান্য পোড়া খাবারের ব্যবস্থা করা হয়।
**নিরাপত্তা ও সংযোগ**
ভ্রমণের সময় বড় দলে যাওয়া এবং স্থানীয় প্রশাসনের যোগাযোগের নম্বার সংগ্রহ করা জরুরি, যাতে কোনো জরুরি ঘটেয় তবে দ্রুত সাহায্য করা যায়।
সম্পাদক ও প্রকাশক : সুজন মাহমুদ মোবাইল: 01713915888
নির্বাহী পরিচালক মোঃ আনিছুর রহমান মোবাইল: 01714236204
Copyright © 2026 sbtv24. All rights reserved.