
তিন যুবক সহ ৩০ বাংলাদেশি চাকরির প্রলোভনে রাশিয়ায় পাঠানো, পরে রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে মোতায়েন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) এর প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে যে প্রতিপক্ষের অবস্থান শনাক্ত করার জন্য বাংলাদেশিদের এক ধরনের ফাঁদ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল।
এসআরবি ১৪ অক্টোবর এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানায়। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, গত ৫ মে জাবালে নূর, আরএস ইন্টারন্যাশনাল এবং টিএস গ্রুপ নামের তিন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ৩০ বাংলাদেশি রাশিয়ায় যান।
এসআরবি এর প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, যুদ্ধক্ষেত্রে বাংলাদেশিদের পাঠানো হতো প্রতিপক্ষের অবস্থান শনাক্ত করার উদ্দেশ্যে। ধারণা করা হচ্ছে যে তাদের ওপর ড্রোন হামলা হলে হামলাকারীদের অবস্থান ও দূরত্ব নির্ণয় করা সম্ভব হতো। এসআরবি আরও জানায়, ৩০ জনের মধ্যে ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে, ২ জন গুরুতর আহত অবস্থায় বাংলাদেশে ফিরে এসেছে। ২ জন মস্কোতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছে এবং বাকি ৬ জন এখনো নিখোঁজ।
তাদের মধ্যে ছিলেন টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার দক্ষিণ পাথালিয়া গ্রামের মৃত কছর উদ্দিনের ছেলে আমিনুল ইসলাম, মজিদপুর গ্রামের পরেশ চন্দ্র সূত্রধরের একমাত্র ছেলে পবিত্র চন্দ্র এবং বীর নলহরা গ্রামের মৃত ইসমাইলের ছেলে নজরুল ইসলাম।
নজরুল ইসলামের স্ত্রী আছমা বলেন, "আমার ছোট ছোট অবুঝ শিশু বাচ্চাদের দায়িত্ব কে নেবে? আমি বিভিন্ন এনজিও থেকে বিভিন্ন লোকের কাছ থেকে ঋণের মাধ্যমে টাকা এনে রাশিয়ায় পাঠিয়েছি। চার মাস ধরে কোনো খবর পাচ্ছি না। সরকারের কাছে আবেদন সে যদি মারা গিয়ে থাকে, তার লাশটা যেন ফিরিয়ে আনা হয় এবং যারা প্রতারণা করেছে তাদের বিচার দাবি করছি।"
অন্যদিকে মজিদপুর গ্রামের পবিত্রের বাবা পরেশ চন্দ্র বলেন, "বিভিন্ন মাধ্যমে আমার ছেলের মৃত্যুর সংবাদ আসলেও, আসলে কি ঘটেছে তা সরকারের মাধ্যমে জানতে পারি নাই। আমার ছেলে জীবিত আছে না মৃত সে খবরও এখন আমি পাচ্ছি না। আমাদের সংসারে একমাত্র উপার্জনক্ষম আমার ছেলে। আমার ছেলের প্রকৃত সংবাদ চাই, আমি আমার ছেলেকে চাকরি করতে পাঠিয়েছি, যুদ্ধ করতে পাঠাই নাই। আমার ছোট ছোট নাতি/নাতনিকে কে দেখবে?"
সাম্প্রতিককালে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি অডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়েছে, যাতে গোপালপুরের এই তিন যুবকের মধ্যে দুজনের নাম উল্লেখ করে তাদের নিয়ে উদ্বেগজনক দাবি করা হয়েছে। অডিওতে নিজেকে জামালপুরের আরমান পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তি দাবি করেন, রাশিয়ায় যাওয়া কয়েকজন যুদ্ধক্ষেত্রে মারা গেছেন এবং কয়েকজনকে আটকে রেখে নির্যাতন করা হচ্ছে। তবে অডিওতে করা এসব দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তিন পরিবারের সদস্যরাই জানান, তাদের স্বজনদের বর্তমান অবস্থান বা মৃত্যুর বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পাননি। স্বজনদের সন্ধানে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা। এদিকে, তিন যুবকের প্রত্যেকের পরিবারেই রয়েছে ছোট ছোট সন্তান। উপার্জনক্ষম ব্যক্তিদের অনুপস্থিতিতে সন্তানদের ভরণপোষণসহ সংসারের ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন পরিবারের সদস্যরা। স্বজনদের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ আর আর্থিক সংকটে পরিবারগুলো বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
গোপালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ রুহুল আমিন বলেন, "এ বিষয়ে আমি অবগত নই। তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে যদি কোন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য থানায় আসে, অবশ্যই তাদের সহায়তা ও আনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
সম্পাদক ও প্রকাশক : সুজন মাহমুদ মোবাইল: 01575626551
নির্বাহী পরিচালক মোঃ আনিছুর রহমান মোবাইল: 01714236204
Copyright © 2026 sbtv24. All rights reserved.