
সন্তানের প্রতিটি ভুল সংশোধন করলেই ভালো হবে না—এমত মতামত দিচ্ছেন মনোবিজ্ঞানীরা। বাবা-মা প্রায়ই চান সন্তানকে বিপদ ও ব্যর্থতা থেকে দূরে রাখা, তবে অতিরিক্ত সুরক্ষা প্রদান করার চেষ্টায় অনিচ্ছাকৃতভাবেই শিশুর শেখার সুযোগ কমিয়ে দিতে পারছেন অভিভাবকরা। মনোবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে, বয়স ও পরিস্থিতি অনুযায়ী ভুল করার সুযোগ পাওয়া এবং সেখান থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা শিশুর মানসিক বিকাশের অপরিহার্য অংশ।
শিশুরা প্রতিদিন নতুন অভিজ্ঞতা সংগ্রহ করে—খেলার মাঝপথে হেরে যাওয়া, নিজের দায়িত্ব পূরণ করতে অক্ষমতা, বা ভুল সিদ্ধান্তের ফলাফল ভোগ করা। এই অভিজ্ঞতাগুলো থেকেই তারা ধীরে ধীরে সমস্যা সমাধান, দায়িত্বহীনতা ও নতুন পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নেওয়ার দক্ষতা অর্জন করে। প্রতিটি ভুলে বকাঝকা করা বা প্রতিটি পদক্ষেপ নিয়ন্ত্রণ করলে শিশুর মধ্যে ব্যর্থতার ভয় জন্মাতে পারে, নতুন কিছু চেষ্টা করার আগ্রহ কমাতে পারে এবং আত্মবিশ্বাস হ্রাস পেতে পারে।
বিপরীতভাবে, নিরাপদ পরিবেশে নিজের ভুল বুঝতে ও সংশোধনের সুযোগ পেলে শিশুর আত্মবিশ্বাস বেড়ে। উদাহরণস্বরূপ, স্কুলের ব্যাগ গোছাতে বই বাদ পড়লে পরের বার তালিকা বানানোর অভ্যাস গড়ে উঠতে পারে। এ ধরনের ছোট ছোট অভিজ্ঞতা শিশুকে দায়িত্বশীল বানাতে সাহায্য করে।
**অভিভাবকরা কীভাবে সাহায্য করতে পারেন:**
* **নিজে চেষ্টার সুযোগ দিন:** বয়সানুসারে ব্যাগ গোছানো, খেলনা সাজানো বা ছোট সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব দিন। কাজ নিখুঁত না হলেও সঙ্গে সঙ্গে সংশোধন না করে আবার চেষ্টা করতে উৎসাহিত করুন।
* **বকাঝকা না করে আলোচনা করুন:** ভুল হলে রাগ না দেখিয়ে জানান কী ও কেন ঘটেছে। পরের বার ভালোভাবে করা যাবে সেটি নিয়ে আলোচনা করুন।
* **সব সমস্যার সমাধান করবেন না:** বন্ধুর সঙ্গে অনবন বা খেলায় হারleşে সন্তানের কথা শুনুন। পরিস্থিতি নিজে কীভাবে সামলাবে সেটি ভাবতে সাহায্য করুন। তবে বুলিং, নির্যাতন বা বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে অভিভাবকের সক্রিয় ভূমিকা জরুরি।
* **চেষ্টার প্রশংসা করুন:** শুধু সাফল্য নয়, কঠিন কাজের চেষ্টা, ভুল স্বীকৃতি ও পুনরায় চেষ্টার জন্যও প্রশংসা করুন। এতে শেখার প্রতি আগ্রহ বেড়ে।
* **ভুলের পরিণতি বুঝাতে দিন:** কাজ অসম্পূর্ণ থাকলে কীভাবে সম্পন্ন করবেন সেটি নিয়ে দিকনির্দেশনা দিন। নিরাপদে নিজের দায়িত্ব নেওয়ার অভ্যাস করান। ভুলের জন্য অপমান বা ভয় দেখানো উচিত নয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুর বয়স, মানসিক পরিপক্বতা ও পরিস্থিতি বিবেচনা করেই স্বাধীনতা দিতে হবে। খেলনা সাজানো বা বই বেছে নেওয়ার মতো কাজে স্বাধীনতা দেওয়া যাবে, কিন্তু রাস্তা পারা, আগুন ব্যবহার বা বিপজ্জনক যন্ত্রপাতি চলাচলে সরাসরি তত্ত্বাবধান জরুরি। সন্তান ভুল করে হতাশ হলে প্রথমে তার অনুভূতি গুরুত্ব দিন, পরের শান্তিতে ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে আলোচনা করুন। এতে সে বুঝতে পারবে, ভুল মানে ব্যর্থতা নয়; সংশোধন করে সামনে এগিয়ে যাওয়াও শেখার অংশ।
সারসংক্ষেপে, সন্তানকে ভুল করতে দেওয়ার অর্থ অবহেলা নয়—প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও দিকনির্দেশনা নিশ্চিত করে নিজের অভিজ্ঞতা থেকে শেখার সুযোগ দেওয়া। বাবা-মার দায়িত্ব প্রতিটি বাধা সরিয়ে দেওয়া নয়, বরং সন্তানকে বাধা মোকাবিলার দক্ষতা অর্জনে সাহায্য করা। ভালোবাসা, নিরাপত্তা ও স্বাধীনতার ভারসাম্য রক্ষা করলে শিশু আত্মবিশ্বাসী, দায়িত্বশীল ও সমস্যা সমাধানে দক্ষ হয়ে উঠতে পারে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : সুজন মাহমুদ মোবাইল: 01575626551
নির্বাহী পরিচালক মোঃ আনিছুর রহমান মোবাইল: 01714236204
Copyright © 2026 sbtv24. All rights reserved.