
বৃহস্পতিবার দুপুরে কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার খ্যাংখালী স্টেশন এলাকায় পুলিশের একটি অভিযানে একটি ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা থেকে যাবা উদ্ধার ও একজন ব্যক্তির গ্রেফতারের ঘটনায় বড় বিতর্ক উঠেছে। বালুখালী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) কিবরিয়ার নেতৃত্বে চলে অভিযানে পালংখালী ইউনিয়নের আঞ্জুমানপাড়ার আব্দুস ছবুরের ছেলে ও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য ছৈয়দুল বশর উরফে ছিছিকে আটক করা হয়। পুলিশ اوকে উখিয়ার শীর্ষ মাদক কারবারিদের একজন বলে দাবি করছে।
যদিও উখিয়া থানা পুলিশের официয়াল সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বালুখালী জোড়া ব্রিজের পশ্চিম পাশে অস্থায়ী চেকপোস্টে তল্লাশির время অটোরিকশার চালকসহ তিনজন পালাতে চাইলেও পুলিশ ছৈয়দুল বশরকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে উদ্ধার করা যাবার পরিমাণ ৫০ হাজার পিস (পাঁচ কার্টুন) এবং অটোরিকশা জব্দের কথা উল্লেখ করা আছে। পিস্তল উদ্ধারের কোনো উল্লেখ সেখানে নেই।
দूसरी দিকে, ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকার দাবি করা প্রত্যক্ষদর্শীদের ও স্থানীয় সূত্র들의 বর্ণনা পুলিশের বিজ্ঞপ্তির সাথে সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাদের মতে, অটোরিকশা থেকে ১৫ কার্ড অর্থাৎ প্রায় দেড় লাখ পিস যাবা এবং একটি নাইন এমএম পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছিল। অভিযোগ উঠেছে, উদ্ধার হওয়া যাবার মধ্যে এক লাখ পিস জব্দের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না করে সরিয়ে ফেলা হয়েছে এবং পরে সেটি মাদক কারবারিদের কাছে বিক্রি করা হয়েছে। পिस्तলটি জব্দের তালিকায় না রাখার বিনিময়ে আটক ব্যক্তির পরিবারের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এই ঘটনার মাস্টার মাইন্ড হিসেবে বালুখালী ফাঁড়ি ইনচার্জ এসআই কিবরিয়ার পাশাপাশি সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) সজিবুল ইসলাম ও কনস্টেবল মোহাম্মদ সুজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয় একটি সূত্রের দাবি, জব্দির তালিকায় না থাকা এক লাখ পিস যাবা ঘটনার রাতেই প্রায় এক কোটি টাকায় একটি মাদক কারবারি চক্রের কাছে বিক্রি করা হয়েছে।
এসআই কিবরিয়া নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম ফাঁড়ি ও উখিয়ায় দীর্ঘদিন কর্মরত রয়েছেন। স্থানীয়রা দাবি করছেন, এই সময়ে সীমান্তের মাদক পয়েন্ট, কারবারি ও সোর্স সবাই তার জানা-পরিচিত। অভিযোগ রয়েছে, কারবারিদের কাছ থেকে মাসিক হাফতা ও মাদক সরানো তার অভ্যাসে পরিণত হয়েছে এবং সেই আয়ে গ্রামের বাড়িতে স্ত্রী ও স্বজনদের নামে বিপুল সম্পদ গড়ে উঠানো হয়েছে। উপজেলা ছাত্রদল নেতা মাহবুব আহমদ শাকিল ও স্থানীয় যুবক ওসমান সরওয়ার সোশ্যাল মিডিয়ায় এসআই কিবরিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন। স্থানীয় সাংবাদিক রফিক উদ্দিন ফেসবুকে যাবার উদ্ধারের পরিমাণ নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন, যার প্রতিক্রিয়ায়ও কয়েকজন দেড় লাখ পিস যাবা উদ্ধারের দাবি করেছেন।
গত ১৭ আগস্ট মাদকবিরোধী র্যালিতে উখিয়া থানার তৎকালীন ওসি আতিকুর রহমান ‘হয় মাদক ছাড়ুন, নইলে উখিয়া ছাড়ুন’ এমন হুংকার দিয়েছিলেন। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই হুংকার কারবারিদের ভয় দেখিয়ে সুবিধা আদায়ের কৌশল মাত্র ছিল এবং এরপর এলাকা মাদকের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় আইনজীবী এডভোকেট জসিম আজাদ। তিনি বলেছেন, উখিয়া থানা পুলিশের পাঁচ সদস্যের বিরুদ্ধে যাবা গায়েবের অভিযোগের খবর অত্যন্ত উদ্বেগজনক। যারা মাদক নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে আছেন, তাদের বিরুদ্ধেই জব্দ করা মাদক গায়েব করার অভিযোগ উঠলে তা দুঃখজনক। সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা মনে করিয়ে তিনি প্রশ্ন করেছেন, মাঠপর্যায়ে সেই নীতির যথাযথ প্রতিফলন ঘটছে কি না।
বালুখালী ফাঁড়ি ইনচার্জ এসআই কিবরিয়াকে একাধিকবার ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে সংবাদ পাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। তিনি প্রাথমিকভাবে ফোন না পাওয়ার পর হোয়াটসঅ্যাপে অভিযোগ জানিয়ে বক্তব্য চাওয়া হলেও জবাব দেননি। পরে ফোন পাওয়া যেতে তিনি বলেন, “আপনি কী জন্য ফোন দিয়েছেন, আমি জানি। এই বিষয় নিয়ে গতকাল থেকে অন্তত ৫০টি কল পেয়েছি। আপনারা তদন্ত করে যা পান, তা লিখেন।” তবে উদ্ধার হওয়া এক লাখ পিস যাবা গায়েব, পিস্তল জব্দের তালিকায় না থাকা বা অর্থ লেনদেনের অভিযোগ সম্পর্কে তিনি সরাসরি কোনো ব্যাখ্যা দেননি।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, তিনি গত চার দিন থানায় উপস্থিত নন, ছুটিতে ছিলেন। এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটে থাকলে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হবে। তবে তিনি দাবি করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে যারা প্রচার করছেন তারা অপরাধ করছেন; তারা মাদক নির্মুলের জন্য এসেছেন।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) মো. অহিদুর রহমান বলেন, মিডিয়ার মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছেন এবং অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি তথ্য-উপাত্ত দিয়ে সহযোগিতা চেয়েছেন। একই সাথে তিনি অভিমত দেন, সাধারণত বিজিবি বা অন্যান্য বাহিনী মাদক জব্দ করলে এভাবে অভিযোগ প্রচার করে না; পুলিশ অভিযান পরিচালনা করলেই এ ধরনের অভিযোগ উঠে, ফলে উখিয়া-টেকনাফ এলাকায় দায়িত্ব পালন করতে অনেক কর্মকর্তা আগ্রহী হন না। তারপরও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : সুজন মাহমুদ মোবাইল: 01713915888
নির্বাহী পরিচালক মোঃ আনিছুর রহমান মোবাইল: 01714236204
Copyright © 2026 sbtv24. All rights reserved.