
আমজনতা দলের সদস্যসচিব মো. তারেক রহমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি দীর্ঘ পোস্টে জামায়াত-ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-কে কটাক্ষ করেছেন। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) প্রকাশিত পোস্টে তিনি দাবি করেন, তারেক রহমানের রাষ্ট্রীয় সম্মান পাওয়াকে দল দুটির অনেকেই সহ্য করতে পারছেন না।
পোস্টে তারেক রহমান লিখেছেন, 'জামাত এনসিপি আমাকে হেয় করতে করতে এমন মানসিক অবস্থায় চলে গেছেন যে, আমার একটু রাষ্ট্রীয় সম্মান পাওয়াটা সহ্য করতে পারছে না। তারা হাঁফাচ্ছে জিহবাটা বের করে।' প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে একটি মন্তব্যের প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেছেন, 'ওরা জ্বলতে থাকুক।'
নিজের রাজনৈতিক জীবনের আর্থিক সংকটের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের আন্দোলনে অংশ নেওয়া অনেক সহযোদ্ধাকে কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। রাজনৈতিক কার্যক্রমে সময় দিয়েতে অনেককে শুভাকাঙ্ক্ষীদের সহায়তায় চলতে হয়েছে। এক সময় তিনি প্রবাসীদের পাঠানো অর্থে খাবার, গাড়ি ভাড়া ও বাসা ভাড়ার খরচ মেটাতেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। তারেক রহমান দাবি করেন, বাবা-মায়ের রাজনীতিতে অনাগ্রহের কারণে আর্থিক সংকটের মুখোমুখি হতে হয়েছে এবং এক সময় ফল ও মধুর ব্যবসা করেছেন।
আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, ২০১৮ সালের আন্দোলন, মোদি-বিরোধী আন্দোলন এবং ভারতীয় পণ্য বর্জনের প্রচারের জন্য লিফলেট তৈরির কাজ নিজ হাতে করেছেন। এই দাবিগুলোর স্বাধীন যাচাই এই পোস্টের ভিত্তিতে করা সম্ভব নয়।
গিরফতারি ও গুমের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান দাবি করেন, ২০১৮ সালের ১৪ মার্চ রমনা থানায় প্রথমে আটক হন। একই বছরের ১৪ জুলাই ডিজিএফআইয়ের মাধ্যমে গুমের শিকার হন। এরপর ২০২০ সালের ১০ ডিসেম্বর ডিবি এবং ২২ জুলাই ডিজিএফআই তাকে আটক করে। এছাড়াও ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট ১০ দিনের রিমান্ডে থাকার কথাও তিনি জানান।
সার্বভৌমত্ব ও মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, যারা তাকে সহ্য করতে পারছেন না, তাদের সঙ্গে তার বিরোধ রাজনৈতিক নয়, বরং সার্বভৌমতার প্রশ্নে। জুলাই-পরবর্তী সময়ে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কথা বলা যাবে না—এমন বক্তব্যের বিরোধিতা করে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধই ছিল সার্বভৌমতার সবচেয়ে বড় লড়াই।
তিনি দাবি করেন, ১৯৭১ সালে পরাজিত শক্তি বিভিন্ন বিদেশি শক্তির সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করছে ক্ষমতায় আসার জন্য। ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট ভারতের সহযোগিতা নিয়ে সংবাদ সম্মেলনের প্রসঙ্গও তিনি তুলে এনেছেন। পাশাপাশি জামায়াতের আমির ও নেতা গোলাম পরওয়ারের সঙ্গে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা 'র'-এর যোগাযোগ নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনের উল্লেখ করেছেন। এসব বিষয়ে তাঁর বক্তব্যের স্বাধীন যাচাই এই পোস্টের ভিত্তিতে করা সম্ভব নয়।
সরকারের আট মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তি অস্থির হয়ে উঠেছে বলেও মন্তব্য করেন তারেক রহমান। বিএনপিতে কারও পদত্যাগে জামায়াত খুশি হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
পোস্টের শেষে জুলাইয়ের মামলায় কোনো বীর মুক্তিযোদ্ধা কারাগারে থাকলে মুক্তিযুদ্ধের সম্মানে জামিন দেওয়ার জন্য আদালতের প্রতি আহ্বান জানান তারেক রহমান। তাঁর প্রস্তাব, জামিনে মুক্ত থাকার পর কেউ দোষী প্রমাণিত হলে তাকে আবার গ্রেপ্তার করা যাবে। জুলাইয়ের সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের দূরত্ব কমানোর এটিই একমাত্র উপায় বলে তার মতে।
সবশেষে বাংলাদেশপন্থী দল, জাতীয়তাবাদী দল এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সহযোদ্ধাদের পাশে থাকার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন আমজনতা দলের সদস্যসচিব। প্রধানমন্ত্রীকে নিজের সঙ্গে রাখার জন্য ভালোবাসা জানান তিনি।
সম্পাদক ও প্রকাশক : সুজন মাহমুদ মোবাইল: 01713915888
নির্বাহী পরিচালক মোঃ আনিছুর রহমান মোবাইল: 01714236204
Copyright © 2026 sbtv24. All rights reserved.