
মৃত্যুর পর প্রথম রাত: কবরে কী ঘটে মানুষের সঙ্গে?
ইস্লামিক বিশ্বাসের মতে, কোনো মানুষের মর্যাদা শেষ হলে তার নেশা (রুহ) তৎক্ষণাত “বরজখ” (Barzakh) নামে পরিচিত এক অদৃশ্য জগতে প্রবেশ করে। এই মধ্যবর্তী நிலারপরীক্ষা, যা মৃত্যুর পর “প্রথম রাত”said, বরজখের অভিজ্ঞতা হিসাবে বিবেচিত হয়। ধর্মীয় সংবাদে এই পরীক্ষাটির বিস্তারিত বর্ণনা বিভিন্ন হাদিস এবং পবিত্র কোরআনের আয়াতে পাওয়া যায়।
সাহাবি হজরত উসমান (রা.)‑এর one anecdote মতে, তিনি কবরের পাশে দাঁড়ালে কাঁদতেন, কারণ তিনি পবিত্র নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)‑এর একটি বাণী স্মরণ করতেন। নবী (সা.) বলেছেন, “কবরে মুক্তি পেলে পরবর্তী ধাপগুলো সহজ, না পেলে কঠিন হবে।” এই কথাটি উসমানের কান্ডে রিপ্রেজন করলে তার গভীর অনুভূতি প্রকাশ পায়।
বরজখের প্রথম অভিজ্ঞতা “মাটির চাপ” বা “দাবগতুল কবর” নামে পরিচিত। হাদিসের মতে, মৃতের রুহটি চারদিক থেকে ধরে নেওয়া হয়; এটি মুক্তি না দেয় এমন একটি সংকীর্ণতা। নিকটে পাপী বা নিকারের জন্য এই চাপের তীব্রতা ভিন্ন, তবে এই বিষয়ে কোনো expérimenteally নিরাপত্তা নয়, মানে এটি ধর্মীয় বিশ্বাসের একটি বোঝানো বিষয়।
সাদ ইবনে মুয়াজ (রা.)‑এর প্রত্যেক হাদিসের সংখ্যা ২০৫৪ে উল্লেখিত, যেখানে নবী (সা.) বলেছেন, “বরজখে একটি চাপ আছে; যারা এই চাপ থেকে রেহাই পেত, সে সাদ ইবনে মুয়াজের রেহাই পেতেন।” এই হাদিসটি বরজখের চাপের প্রেক্ষা দিয়ে দেয়, তবে এটি কেবল বিশ্বাসীের অনুমানের অংশ।
কবরের পরপর দুই ফেরেশতা—মুনকার ও নাকির—দ্বারা treble প্রশ্ন করেন: “তোমার রব কে?”, “তোমার ধর্ম কী?”, “মুহাম্মদ (সা.) সম্পর্কে তুমি কী বলতে?” (হাদিস নম্বর ৪৭৫৩)। এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে সঠিক ইমান এবং সৎকর্মের দাবি করা হয়; কোরআনের ২৭ নম্বর আযাতে আল্লাহ বলেন, “মুমিনদের ইহকাল ও পরকালে শাশ্বত বাণীর ওপর সুদৃঢ রাখেন।” (ইবনে কাসিরের তাফসিরে এই আযার ব্যাখ্যা করে, মানে সঠিক উত্তর দেওয়ার তাওফিকও এই আযাতে অন্তর্ভুক্ত।
আল-কুরতুবি ও মাকতাবাতুল বুখারি (২০০৮) এর মতে, মৃতের ভালো কাজ—নামাজ, রোজা, জাকাত, দান‑সদকা, মানবতার সঙ্গে সদাচারণ—বরজখে সুরক্ষা করবে। এই ভালো আচরণাগুলো পরকালের জন্য দায়িত্বপূর্ণ সাথী হিসেবে কাজ করবে।
হাদিসের ২৪৬০ নম্বরে নবী (সা.) বলেছেন, “বরজখ হলো জান্নাতের বাগান বা জাহান্নামের গর্ত।” এই بیانাটা দেখায়, বরজখের অবস্থা দারুণ ভিন্ন; সঠিক উত্তর দিলে পারিজাতের দরজা খুলে ওঠে, না সঠিক না দিলে জাহান্নামের দিকে গর্ত খুলে।
দাফন সম্পন্ন হলে, ইসলামি নির্দেশনা অনুযায়ী, মারা রকমি কবরস্থান থেকে দূর না থাকা সময়ে দোয়া করা উচিত। নবী (সা.) বলেছেন, “তোমারা তোমাদের ভাইয়ের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাও এবং সে যেন প্রশ্নের সময় অবিচল থাকতে পারে, তাই দোয়া করো” (হাদিস নম্বর ৩২২১)। এই দোয়া, বিশেষ করে যখন রুহ প্রশ্নের সম্মুখে আছি, তোফিক দিতে সাহায্য করবে।
সারসংক্ষেপে, বরজখ একটি ভৌগত, অদৃশ্য পরিমাণ যা মৃত্যুরপরবর্তী জীবনের প্রথম রাতে ব্যক্তিকে পরীক্ষা করে। সঠিক উত্তর ও ভালো কাজের মাধ্যমে দরজা খুলে জান্নাতের দিকে প্রবেশ করা যায়, অন্যথায় জাহান্নামের গর্তের দিকে। এই প্রক্রিয়ার জন্য শুধু ধর্মীয় অনুশীলনই নয়, বরং দৈনন্দিন জীবনে নৈতিক আচরণ, দান‑সদকা এবং সৎকর্মও অপরিহার্য।
সম্পাদক ও প্রকাশক : সুজন মাহমুদ মোবাইল: 01575626551
নির্বাহী পরিচালক মোঃ আনিছুর রহমান মোবাইল: 01714236204
Copyright © 2026 sbtv24. All rights reserved.