
টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ে তিনটি মরদেহ পাওয়ার সংবাদ পাওয়া গেছে। কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এবং জানিয়েছেন যে, লাশ উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী যৌথবাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
টেকনাফ মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সন্ধ্যা পর্যন্ত পাহাড়ে অপরাধিদের আস্তানা ঘিরে যৌথবাহিনীর বিশেষ অভিযান চলছে। বিস্তারিত তথ্য পরে দেওয়া হবে। স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে বিজিবি ও পুলিশের সযবস্থ অংশগ্রহণে পাহাড়ের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে।
গত বৃহস্পতিবার টেকনাফের গহীন পাহাড়ে মানব পাচারকারীদের সাথে যৌথবাহিনীর গোলাগুলিতে সেনা সদস্য মো. তিতাস শেখ নিহত হয়েছিলেন। তিনি ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া ইউনিয়নের আবাসিক ছিলেন। নিহত সেনাসদস্যের মরদেহ শুক্রবার হেলিকপ্টারের মাধ্যমে গ্রামে পাঠানো হয়েছে। সকালে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্তের পর রামু সেনা নিবাসে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
যৌথবাহিনীর অভিযানের সময় পাহাড় থেকে ৫৬ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। থানা ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, উদ্ধারকৃতদের পুলিশের হवाले করা হয়েছে এবং তাদের পরিচয় যাচাই-বাছাই চলছে। আদালতের মাধ্যমে স্বজনদের হস্তান্তর করা হবে। পুলিশ জানিয়েছে, গতকাল ৫৭ জন উদ্ধারের কথা জানানো হয়েছিল, কিন্তু পরবর্তী যাচাইে একজন দালাল জিন্মিদের মধ্যে থাকার কথা পাওয়া গেছে। পাহাড়ে অভিযানের সময় আটক ৬ মানব পাচারকারীকে অস্ত্রসহ পুলিশের হেফাজতে দেওয়া হয়েছে। সেনাসদস্য নিহত হওয়া ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।
উদ্ধার হওয়া ফরিদপুরের আসাদুজ্জামান জানান, আট দিন ধরে পাহাড়ের একটি ঝোপড়িতে বন্দি রেখে মানব পাচারকারী গোষ্ঠী তাকে রাখে ছিল। সে দাবি করেছেন, পাহাড়ে ৪০-৫০ জনের একটি সশস্ত্র পাহারাদল ছিল। কক্সবাজারের ব্রিজে চাকরির প্রলোভনে উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্পের একজন রোহিঙ্গার মাধ্যমে তাকে ডেকে আনা হয়েছিল এবং পরে সিএনজি চালিত অটোরিকশায় পাহাড়ে নিয়ে পাচারকারীদের হাতে বেচে দেওয়া হয়েছিল। তিনি আরো জানান, পাহাড়ে তার মতো অর্ধশতাধিক মানুষ আটক ছিল। দুইবার পালানোর চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছিল। গতকাল ট্রলারে সাগরপথে পাচারের পরিকল্পনা ছিল, কিন্তু যৌথবাহিনীর অভিযানে তারা উদ্ধার পায়।
উদ্ধারকৃত উখিয়ার সেবতখালীর মো. সাইফুল ও মিজানুর রহমান সাগর বলেন, নূরালী নামের একজন দালাল তাদের মানব পাচারকারীদের হাতে তুলে দিয়েছিল। তারা দাবি করেছেন, পাচারকারীরা তাদের দুইজনের জন্য এক লাখ টাকা করে দিয়েছিল। পাঁচ দিন ধরে প্রতিদিন চার-পাঁচজন নতুন মানুষ আনা হতো। কথা বলার চেষ্টা করলে মারধর করা হতো এবং লোহার শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হতো। খাবার হিসেবে কাঁচা কদু ও ডাল দেওয়া হতো, ক্ষুধায় প্রাণ যাবার অবস্থা ছিল।
হ্নীলার স্থানীয় বাসিন্দা নুর আলম ও ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী পাহাড়ে সাঁড়াশি অভিযানের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, পাহাড়ে সশস্ত্র মানব পাচারকারী গোষ্ঠীর নেটওয়ার্ক ভাঙতে হবে না হলে সাধারণ মানুষ অসহায় থাকবে। প্রতিদিন গুলির শব্দ শোনা যায় এবং বাহারছড়া, হ্নীলা ও হোয়াইক্যংয়ের পাহাড়ে সশস্ত্র আস্তানা গড়ে উঠেছে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম অনীক চৌধুরী বলেন, পাহাড়ে অবস্থানরত সশস্ত্র মানব পাচারকারীদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে এবং অপরাধীদের কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না। তিনি মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচির ওপরও নজর রেখে থাকার কথা জানিয়েছেন। সেনাসদস্য নিহত হওয়া ঘটনায় গভীর মর্মাহত ও শোক প্রকাশ করছেন তিনি এবং অপরাধ নির্মূলে স্থানীয় জনগণের সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন বলে মনে করেন।
বিএনপি সেনাসদস্য নিহত হওয়ার প্রতিবাদ ও অপরাধিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে টেকনাফ-উখিয়ায় মিছিল ও সমাবেশ করেছে। সাধারণ ছাত্র-জনতা মানববন্ধন করে পাহাড়কে অপরাধ মুক্ত করার দাবি জানিয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : সুজন মাহমুদ মোবাইল: 01575626551
নির্বাহী পরিচালক মোঃ আনিছুর রহমান মোবাইল: 01714236204
Copyright © 2026 sbtv24. All rights reserved.