
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)-এর নতুন উপাচায্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম গত ২৩ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে উপাচায্য ভবনে অবরুদ্ধ রয়েছেন। ছাত্রদের দেওয়া তালার কারণে গত সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুর ১২টার পর থেকে তিনি নিজ দপ্তর থেকে বের হতে পারছেন না। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল ১১টা পর্যন্তও অবরুদ্ধ অবস্থা বজায় ছিল।
আন্দোলনরত ছাত্ররা জানিয়েছেন, উপাচায্য পদত্যাগ না করা পর্যন্ত ভবনের ফটকে দেওয়া তালার খোলা হবে না। এছাড়া তারা ভবনের বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। ফলে উপাচায্যসহ ভবনের ভেতরে থাকা ১০ থেকে ১১ জন কষ্টে পড়েছেন। তাদের মধ্যে চুয়েট ছাত্রদলের সভাপতি ওয়াসিফ রাসেদ এবং বর্তমান ও সাবেক কয়েকজন ছাত্র আছেন। অবরুদ্ধ অবস্থায় রাত কাটানো হয়েছে তাদের।
উপাচায্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম গণমাধ্যমকে বলেন, রাতের বেলা ঘুমাতে পারেননি এবং প্রচণ্ড মাথাব্যথা হচ্ছে। অবরুদ্ধ অবস্থার একজন দিবাদিগ্ন রাত দেড়টার দিকে অসুস্থ হয়ে পড়েন; তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
বিষয়টি নিয়ে উপাচায্য বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাসের সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া অমানবিক। তিনি আরও জানান, ছাত্ররা কোনো লিখিত দাবি জানাননি। লিখিতভাবে দাবি জানালে তিনি বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)-কে অবহিত করতে পারতেন। মঙ্গলবার সকাল পৌনে ১১টার দিকে তিনি জানান, রাত দুইটার দিকে পুলিশের মাধ্যমে খাবার এসেছিল, তাই খেয়েছেন।
পটভূমিতে, গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচায্যের পদ থেকে অপসারণ করে কুয়েটের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচায্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই নিয়োগের পর থেকেই সাবেক উপাচায্যকে পুনর্বহাল করার দাবিতে ছাত্ররা আন্দোলন শুরু করে। ২২ সেপ্টেম্বর থেকে তারা 'কমপ্লিট শাটডাউন' কর্মসূচি পালন করছে। অধ্যাপক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কর্মবিরতি ও 'সর্বাত্মক অসহযোগ' কর্মসূচিতে আছেন। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে।
নতুন উপাচায্য দায়িত্ব নেওয়ার পরও ক্যাম্পাসে আসতে পারছিলেন না। সোমবার ছাত্রদল নেতাদের নিয়ে ছাত্রদের দেওয়া তালার ভাঙে তিনি উপাচায্য ভবনে প্রবেশ করেন এবং নিজ দপ্তরে অবস্থান নেন। তার ক্যাম্পাসে আসার খবর ছড়িয়ে পড়লে সকাল সাড়ে নয়টায় ছাত্ররা উপাচায্যের দপ্তরের সামনে জড়ো হতে শুরু করেন। একপর্যায়ে ছাত্ররা উপাচায্যকে কার্যালয় ছাড়ার জন্য নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেন। সময় শেষ হওয়ার পরও তিনি বের না হওয়ায় দুপুর ১২টার দিকে আবার ফটকে তালার দেন এবং বিদ্যুৎ-পানি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
ছাত্ররা পদত্যাগ দাবি করেছেন। তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের এক ছাত্র বলেন, উপাচায্য পদত্যাগ করলে তারা তালার খুলে দেবেন এবং সম্মানের সাথে ভবন থেকে চলে যেতে পারবেন।
চুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মো. আহসানউল্লাহ জানান, নতুন উপাচায্যের ক্যাম্পাসে আসাটা তারা ভাবেননি। শিক্ষক সমিতির অসহযোগ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। উপাচায্য যেসব শিক্ষক ও ছাত্রের কথা বলেছিলেন, এখন তাদেরই উপাচায্যকে সাহায্য করা উচিত বলে মত দেন তিনি।
সম্পাদক ও প্রকাশক : সুজন মাহমুদ মোবাইল: 01713915888
নির্বাহী পরিচালক মোঃ আনিছুর রহমান মোবাইল: 01714236204
Copyright © 2026 sbtv24. All rights reserved.