
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) কেমিস্ট্রি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার বাধন রাতুলের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটার দিকে সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বিষপানের পর টানা নয় দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করেছিলেন ১৯ বছর বয়সী এই শিক্ষার্থী।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গার দর্শনা পৌরসভার ঈশ্বরচন্দ্রপুর গ্রামের বাসিন্দা রাতুল পড়াশোনায় অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন। তিনি এসএসসি ও এইচএসসি উভয় পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জন করেছিলেন এবং শিক্ষাবৃত্তি নিয়ে শাবিপ্রবিতে ভর্তি হন।
ঘটনার সূত্রপাত গত ৪ অক্টোবর রাত আনুমানিক ১০টার দিকে। পরিবারের দাবি অনুযায়ী, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রিপা খাতুনের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলার সময় রাতুলের সাথে একপর্যায়ে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। এর ফলে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে তিনি ঘাস মারার বিষ পান করেন। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় বন্ধুরা তাঁকে দ্রুত সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখেন এবং কিডনিতে জটিলতা দেখা দিলে ডায়ালাইসিসও করানো হয়। তবে দীর্ঘ লড়াইয়ের পরও তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
মঙ্গলবার শাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে রাতুলের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর তাঁর মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শামসুল হাবিব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রাতুলের মা মোছা. শাহিনা আক্তার এই ঘটনায় কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ দায়ের করেননি। একইসঙ্গে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ হস্তান্তরের জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়েছিল, যা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে মঞ্জুর করা হয়।
এক সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থীর এই অকালমৃত্যুতে তাঁর পরিবার, সহপাঠী ও বন্ধু মহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মন্তব্য করুন