
নলবনিয়ায় ইয়াবা চালান লুটকে কেন্দ্র করে দুটি গোষ্ঠীর বিরোধ, সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী নলবনিয়া এলাকায় ইয়াবার একটি চালানকে কেন্দ্র করে দুটি গোষ্ঠীর মধ্যে বিরোধ গভীর হয়েছে। স্থানীয় বাসীরা জানান, রাতের বেলায় অস্ত্রধারী ব্যক্তিদের উপস্থিতি ও চলাচল তাদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় সূত্রের মতে, গত ২৪ অক্টোবর মিয়ানমার থেকে দেড় লাখ ইয়াবার একটি চালান বাংলাদেশে প্রবেশ করে। চালানটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পকেন্দ্রিক মাদক কারবারি আমিনের নেতৃত্বে আনা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই চালানটির গতিপথ পরিবর্তন করে মাঝপথে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেন। এই ঘটনায় নলবনিয়ার সৈয়দুল বশর আর আরিফ প্রকাশ আব্বুইয়া নেতৃত্বাধীন একটি চক্রের সদস্যরা জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।
তবে এই অভিযোগের সত্যতা এখনো যাচাই করা হয়নি। অভিযুক্ত সৈয়দুল বশর ও আরিফ প্রকাশ আব্বুইয়ার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাদের পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় বাসীদের দাবি, চালান লুটের পর থেকে দুটি পক্ষের মধ্যে বিরোধ প্রকাশ্য সহিংসতার রূপ নিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অস্ত্র প্রদর্শনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। এর মধ্যে গুলিবর্ষণ, অপহরণ ও নির্যাতনের অভিযোগও রয়েছে।
গত ১৩ অক্টোবর পালংখালী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি মোহাম্মদ আমিনকে তার বাড়ি থেকে অস্ত্রের মুখে উঠিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা দাবি করেন, রাতভর দেশী অস্ত্র দিয়ে তার ওপর নির্যাতন চালানো হয়, যার ফলে তার একটি পা মারাত্মকভাবে জখম হয়। এই ঘটনাও ইয়াবা চালান লুটের অভিযোগে অভিযুক্ত চক্রের সাথে সম্পর্কিত বলে অভিযোগ রয়েছে।
এর আগে গত ১২ সেপ্টেম্বর পালংখালী উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠে সাবেক ইউপি সদস্য কামাল উদ্দিনকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই হামলাও ইয়াবা চালান লুটের ঘটনায় জড়িত চক্রের সাথে সংশ্লিষ্ট।
উখিয়া থানার ওসি আতিকুর রহমান মজুমদার বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মাদক প্রতিরোধে পুলিশের পাশাপাশি সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
স্থানীয় বাসীরা সীমান্তবর্তী এলাকায় নিয়মিত পুলিশি টহল এবং মাদক ও অস্ত্রের অবৈধ কারবারে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযানের দাবি জানিয়েছেন।
দেড় লাখ ইয়াবার চালান কীভাবে সীমান্ত পেরে বাংলাদেশে এসেছে, কারা পরিবহন করছিল এবং কারা মাঝপথে তা আত্মসাত করেছে—এই প্রশ্নের উত্তর এখনো পরিষ্কার নয়। স্থানীয়দের মতে, শুধু চালান লুটের অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেই যথেষ্ট নয়, মিয়ানমার থেকে ইয়াবা আনার চক্রের সদস্যদেরও শনাক্ত করে তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন।
মন্তব্য করুন