
তাহসিফ সাউরি হত্যা মামলা: দিশার ফের রিমান্ড মঞ্জুর, উদ্ঘাটনের পথে নতুন প্রশ্ন উঠছে
গত ২৭ অক্টোবর নিখোঁজ হওয়ার পর তাহসিফ সাউরির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় গ্রেফতারকৃত জেরিকা তাসনীম দিশাকে ফের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। এর আগে তার চার দিনের রিমান্ড কার্যকর ছিল।
বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মঞ্জুরুল ইসলামের আদালতে এই আদেশ দেওয়া হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নৌ পুলিশের টঙ্গী ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন এই আবেদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, গত ২৭ অক্টোবর রাতে নিহত তাহসিফের সঙ্গে উত্তরার নেস্ট বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে উপস্থিত ছিলেন দিশা। এর আগে তারা একাধিকবার সিপি ফাইভ স্টার স্ন্যাকসে গিয়েছিলেন। মামলার অপর আসামি আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের সঙ্গে একটি মোটরসাইকেল গ্যারেজে দিশাকে একসঙ্গে দেখা গেছে এবং তাহসিফের সঙ্গে মোটরসাইকেলে বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা করেছেন। মোবাইল কললিস্ট ও সিডিআর বিশ্লেষণে ঘটনার আগে তাদের মধ্যে একাধিকবার কথা বলার তথ্য পাওয়া যায়। তবে এই সম্পর্ক ও কথোপকথনের তথ্য আবেদনে উল্লেখ করা হলেও, প্রাথমিক তদন্তে দিশার জড়িত থাকার কোনো নিশ্চিত তথ্যপ্রমাণ মেলেনি। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে।
হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন, অজ্ঞাতনামা আসামিদের শনাক্ত, হত্যাকাণ্ডের স্থান নির্ধারণ এবং আলামত উদ্ধারের জন্য দিশাকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন বলে রিমান্ড আবেদনে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি অপর আসামি দীপের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে দিশার বক্তব্য মিলিয়ে দেখার প্রয়োজনীয়তাও রয়েছে।
এদিকে, মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় জুনিয়র বন্ধু দীপের ডাকে বাসা থেকে বের হন তাহসিফ। রাতে বাসায় ফিরতে দেরি হওয়ায় মা ফোন করলে কিছুক্ষণের মধ্যে ফিরে আসার কথা জানান তিনি। পরদিন ২৮ অক্টোবর ভোররাত ১টা ৩৫ মিনিটে তাহসিফের ফোন থেকে মেসেঞ্জারে ভয়েস মেসেজ পাঠানো হয় যেখানে বলা হয় ‘রওনা দিয়েছি, আসছি’। কিন্তু এরপর আর বাসায় ফেরেনি তিনি। পরে বিকেল ৫টা ২০ মিনিটের দিকে উত্তরখানের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকায় তুরাগ নদী থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ।
এ ঘটনায় ৩০ অক্টোবর রাতে উত্তরখান থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম। পরে এ মামলায় দীপকে গ্রেফতার দেখানো হয় পুলিশ।
মন্তব্য করুন