
বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক জাহানারা আলমের যৌন হয়রানির অভিযোগের তথ্যের মুখে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে বিসিবি প্রতিবেদনটি ৭০ পৃষ্ঠার হবে বলে জানা হয়েছে, তবে আইনি নিয়ম এবং হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী এই তদন্ত প্রতিবেদনটি জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না বলে বিসিবি স্পষ্ট করেছে।
ঠিক ৭তারা নবম বার্ষিকী (৪ নভেম্বর) হাইকোর্টে আয়োজিত একটি সংবাদ সম্মেলনে বিসিবির আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহিন এম রহমান তদন্তের প্রক্রিয়া সম্পর্কে তথ্য দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তদন্ত প্রতিবেদনটি ভুক্তভোগী, অভিযোগকারী ও সাক্ষীদের ব্যক্তিগত জীবন ও সম্মান সুরক্ষার স্বার্থ রক্ষা করার জন্য আয়োজন করা হয়েছে এবং তাই প্রতিবেদনটি গোপন রাখা বাধ্যতামূলক।
বিসিবি ক্ষতির তদন্তের জন্য পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল, যার নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের একটি বিচারপতি থেকে প্রতিবেচ নেওয়া হয়েছিল। কমিটি ফেব্রুয়ারিতে প্রতিবেদন প্রদান করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাঁচজন মধ্যে সাবেক নির্বাচক ও ম্যানেজার মনজুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শ এবং আপত্তিকর আচরণের সত্যতা পাওয়া যায় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে বিসিবির পরিচালনা পর্ষদ মনজুরুল ইসলামকে বোর্ডের সব ধরনের ক্রিকেটীয় কর্মকাণ্ড থেকে আজীবন নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতায় মনজুরুল ইসলাম হাইকোর্টে দুটি রিট আদায়ন করেছেন, কিন্তু পরবর্তীতে আদালত উভয় রিটই খারিজ করেছে।
বিষয়টি যে জাহানারার সাফল্য এবং খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, তা এখনও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের মুখে ফিরছে। বিসিবি ২০২৬ সালের আগস্টে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ও প্রশমণা (POSH) গাইডলাইন অনুমোদন করেছে এবং বর্তমানে ওয়েবসাইটে নারী ক্রিকেটারদের প্রতিবেদন জানানোর জন্য পৃথক অভিযোগ সেল যুক্ত করে নিয়েছে।
মন্তব্য করুন