
জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)-এর একটি নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খরা, বন্যা ও তাপপ্রবাহসহ জলবায়ুজনিত বিভিন্ন দুর্যোগের চরম ঝুঁকির মুখে থাকা দেশগুলোতে বর্তমানে প্রায় ৯ কোটি বাস্তুচ্যুত মানুষ বসবাস করছে। রয়টার্সের শুক্রবার (৬ নভেম্বর) প্রকাশিত একটি খবরে এই তথ্য উত্থাপন করা হয়েছে।
প্রতিবেদনটি আসন্ন জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন (কপ৩১)-এর আগে প্রকাশিত হয়েছে। সম্মেলনটি তুরস্কের আন্তালিয়ায় ৯ থেকে ২০ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, আফগানিস্তান ও বাংলাদেশের মতো ভয়াবহ জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোতে বিশ্বব্যাপী জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মোট জনগোষ্ঠীর প্রায় তিন-চতুর্থাংশ বসবাস করছে। সংস্থার মতে, এটি যুদ্ধ, সংঘাত ও জলবায়ু পরিবর্তনের মধ্যে গভীর সম্পর্কের একটি বাস্তব চিত্র।
সংস্থার সহকারী হাইকমিশনার (অপারেশনস) আন্তন লেইস গার্সিয়া বলেন, „ঝুঁকিপূর্ণ ও বাস্তুচ্যুত জনগণের টিকে থাকার মূল লড়াই এখন জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া। যাঁদের সবচেয়ে বেশি সাহায্য প্রয়োজন, তাঁদের কাছে জলবায়ু অর্থায়ন দ্রুত পৌঁছানো জরুরি।”
প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য স্থায়ীভাবে নিজ দেশে ফিরে যাওয়া চরম কঠিন হয়ে পড়েছে। ২০২৬ সালের প্রথম ভাগে নিজ দেশে ফিরে আসা শরণার্থীদের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি এমন দেশে ফিরেছেন, যা নিজেরাই মারাত্মক জলবায়ু ঝুঁকির মুখে রয়েছে। ফলে এদের আবারও বাস্তুচ্যুত হওয়ার প্রবল ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
উদাহরণ হিসেবে সিরিয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে সম্প্রতি প্রায় ৪০ লাখ মানুষ ফিরে এসেও চরম পানিসংকট ও খরার মধ্যে বসবাস করছেন। ইউফ্রেটিস নদীর আকস্মিক বন্যায় সেখানে নতুন করে অনেকেই ঘরবাড়ি হারিয়েছেন।
ইউএনএইচসিআর আরও জানিয়েছে, এল নিনোর প্রভাবে আশ্রয়দাতা দেশগুলোতে দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। সংস্থার শঙ্কা, চলতি বছরের শেষদিকে পূর্ব আফ্রিকায় ভয়াবহ বন্যায় সোমালিয়া, কেনিয়া, দক্ষিণ সুদান ও উগান্ডায় অন্তত ৩০ লাখ মানুষ নতুন করে বাস্তুচ্যুত হতে পারেন।
অন্যদিকে, বর্তমানে মোট বৈশ্বিক জলবায়ু তহবিলের মাত্র ১০ শতাংশ সংঘাতপূর্ণ ও বিপদগ্রস্ত দেশগুলোতে পৌঁছাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে চরম ঝুঁকিতে থাকা এই বিশাল জনগোষ্ঠিকে বাঁচাতে আসন্ন কপ৩১ জলবায়ু সম্মেলনে অংশ নেওয়া দেশ ও অর্থদাতা সংস্থাগুলোকে অভিযোজন তহবিল উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর জোর আহ্বান জানিয়েছে ইউএনএইচসিআর।
মন্তব্য করুন