
সিলেট টেস্টে তাওহিদ হৃদয়ের অদ্বিতীয় ডাবল সেঞ্চুরির বলে বাংলাদেশ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ৩০ রানের লিড নিতে সফল হয়েছে। শনিবার ম্যাচের তৃতীয় দিনে ৭ উইকেটে ১৮৪ রান থেকে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের মাধ্যমে স্বাগতিকরা ১১১.৫ ওভারে ৩৮৬ রান বানাতে পেরেছে। হৃদয় ৩৫৯ বলে ২৪২ রানে অপরাজিত থাকেন, যাতে ২২টি চার ও ১১টি ছক্কা রয়েছে।
দিনের শুরুতে ৩ উইকেটে ৮৮ রান থেকে খেলা শুরু করে বাংলাদেশ। অপরাজিত ২৯ ও ১৯ রানে হৃদয় ও মুশফিকুর রহিম পঞ্চাশ জুটি রান করেন। মুশফিকুর ৩৪ রানে জোমেল ওয়ারিক্যানের শিকার হন। এরপর লিটন দাস (৮), মেহেদী হাসান মিরাজ (১৬), হাসান মাহমুদ (১) ও তাসকিন আহমেদ (১২) দ্রুত পabellón ফিরেন। ১৮৪ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ সংকটে পড়েছিল।
সঙ্কটের মুহূর্তে হৃদয় একদিকে উইকেট রক্ষা করতেই অন্যদিকে রানগতি বেড়ান। ১০৯ বলে অর্ধশতক, ১৭১ বলে প্রথম টেস্ট শতক এবং ২৪২ বলে ডাবল সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি। তাইজুল ইসলামের সাথে অষ্টম উইকেটের জন্য ৮৫ রানের জুটি বাঁধেন, যা সিলেটের মাঠে অষ্টম উইকেটে সর্বোচ্চ রেকর্ড। দ্বিতীয় নতুন বলেও হৃদয় আক্রমণ চালিয়ে যান। জেডেন সিলসের এলবিডব্লিউ আপিল রিভিউয়ে বাঁচান। ওয়ারিক্যানের ওভারে পরপর ছক্কা-চার মেরে মুমিনুল হকের ১৮১, সাকিব আল হাসানের ২১৭ এবং মুশফিকুর রহিমের ২১৯ রানের রেকর্ড ভাঙেন। বাংলাদেশের দিকে থেকে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোরের মালিক হন তিনি।
হৃদয় এক ইনিংসে ১১টি ছক্কা মেরে তামিম ইকবালের ৭ ছক্কার রেকর্ড ভাঙেন। বাউন্ডারি থেকে ১৪৮ রান (২২ চার, ১১ ছক্কা) সংগ্রহ করেন, যা বাংলাদেশের জন্য রেকর্ড। এক দিনে ২১৩ রান যোগ করে সাকিব আল হাসানের ২১২ রানের রেকর্ডও অতিক্রম করেন। দলের মোট ৩৮৬ রানের ৬২.৬৯% একাই হৃদয় করেন, যা টেস্ট ইতিহাসে ডাবল সেঞ্চুরি করার ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সর্বোচ্চ শতাংশ। নিজের প্রথম টেস্ট শতকেই ডাবল সেঞ্চুরি করার অনন্য কীর্তিও তাঁর নাম।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংস ৩৫৬ রানের জবাবে বাংলাদেশ ৩০ রানের লিড নেয়। দিনের শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে ৪ ওভারে বিনা উইকেটে ৭ রান করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ব্র্যান্ডন কিং ৫ ও জশুয়া দা সিলভা ২ রানে অপরাজিত। চতুর্থ দিন শুরুতে সফরকারীরা ২৩ রানে পিছিয়ে থাকবে।
বাংলাদেশের ব্যাটস্ম্যানরা: তাওহিদ হৃদয় ২৪২*, মুশফিকুর রহিম ৩৪, তাইজুল ইসলাম ২২, তাসকিন আহমেদ ১২, মেহেদী হাসান মিরাজ ১৬, লিটন দাস ৮, হাসান মাহমুদ ১। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলাররা: জোমেল ওয়ারিক্যান ৪ উইকেট, জেডেন সিলস ২, শামার জোসেফ, জাস্টিন গ্রেভস ও রস্টন চেইস ১-১ উইকেট। সাদমান ইসলাম ফিল্ডিংয়ের সময় চোট পাওয়ায় প্রথম ইনিংসে ব্যাটিং করতে নামেননি।
মন্তব্য করুন