
গাজীপুর শিল্পাঞ্চলে ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে টানা কয়েক দিনের বিক্ষোভের কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে ১১ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালের দিকে শিল্পাঞ্চলে পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও হঠাৎ করে নাওজোড় এলাকার ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে বর্জ্য ফেলে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ করেন তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দিগন্ত সোয়েটার কারখানার সামনে মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে শ্রমিকরা আশপাশ থেকে বর্জ্য এনে মহাসড়কের ওপর জড়ো করে তাতে আগুন ধরিয়ে দেন। এতে মহাসড়কের জয়দেবপুর চৌরাস্তা থেকে নাওজোড় মোড় পর্যন্ত সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল চলাচলেও বাধা দেওয়া হয়। উপস্থিত সংবাদকর্মীরা তথ্য ও ছবি সংগ্রহের চেষ্টা করলে তাদের পেশাগত কাজেও বাধা দেওয়া হয়। তবে ঘটনার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে সকালে কালিয়াকৈরের মৌচাক এলাকায় কিছু শ্রমিক মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করেন। তাদের সরিয়ে আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কোনো সংঘাত ছাড়াই তাদের বুঝিয়ে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেন। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যাপক তৎপরতার অংশ হিসেবে মঙ্গলবার সকাল থেকে ২৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বিজিবি ও পুলিশ মহাসড়ক ও সংবেদনশীল পয়েন্টগুলোতে অবস্থান নেয়। সকালে গাজীপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয় ও শিল্প পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও শান্তিপূর্ণ রয়েছে এবং শ্রমিকরা দলবদ্ধভাবে কাজে যোগ দিচ্ছেন। স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীদের মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে মহড়া দিতে দেখা গেছে বলে জানানো হয়েছে। তবে এই অবস্থানের উদ্দেশ্য ও কারণ এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে গত কয়েক দিন ধরেই ন্যূনতম মজুরির দাবিতে গাজীপুরসহ আশপাশের শিল্পাঞ্চলে মহাসড়ক অবরোধ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। সরকার ইতিমধ্যে নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা দিয়ে শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান জানালেও বিজিবি মোতায়েনের কঠোর নিরাপত্তার মধ্যেও রাজপথের অস্থিতিশীলতা পুরোপুরি নিরসন হয়নি।
মন্তব্য করুন