
নতুন প্রজন্মের কাছে দেশের গান পৌঁছে দিতে ছায়ানটে সাংস্কৃতিক আয়োজন
রাজধানীর ছায়ানট মিলনায়তনে ‘দেশের গান’ শীর্ষক সাংস্কৃতিক আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ আয়োজনের উদ্দেশ্য ছিল দেশাত্মবোধক ও কালজয়ী গানের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা।
আয়োজনটি ‘২৭ ধানমন্ডি-গাই বাংলার গান পর্ষদের’ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে মোট ছয়জন শিল্পী দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করেন। তারা হলেন—মৌমিতা বড়ুয়া, মৌসুমি সরকার, খগেন্দ্রনাথ সরকার, বিজন মিস্ত্রি, মাহমুদুল হাসান এবং তানজিনা তমা। শিল্পীদের কণ্ঠে পরিবেশিত হয় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা, প্রকৃতি, মাটি, মানুষ ও দেশপ্রেমের নানা কালজয়ী গান।
অনুষ্ঠানে মৌমিতা বড়ুয়া পরিবেশন করেন ‘একবার যেতে দে না, আমার ছোট্ট সোনার গাঁয়’, ‘স্মৃতি ঝলমল সুনীল মাঠের কাছে, আমার অনেক ঋণ আছে’ এবং ‘এক নদী রক্ত পেরিয়ে’। মৌসুমি সরকার গেয়ে শোনান ‘ও আমার বাংলা মা তোর’, ‘ও ভাই খাঁটি সোনার চেয়েও খাঁটি’ ও ‘ও আমার দেশের মাটি’। খগেন্দ্রনাথ সরকার পরিবেশন করেন ‘এই না বাংলাদেশের গান গাইতে’, ‘চাষাদের মুটেদের মজুরের’ এবং ‘ভেবো না গো মা তোমার ছেলেরা’। বিজন মিস্ত্রির কণ্ঠে শোনা যায় ‘মাগো ভাবনা কেন’, ‘সাঁঝের বেলায় পাখি ফিরে’ ও ‘একতারা তুই দেশের কথা’। মাহমুদুল হাসান পরিবেশন করেন ‘মাগো ধন্য হলো জীবন আমার’, ‘যে মাটির বুকে ঘুমিয়ে আছে’ এবং ‘এ দেশ আমার মাটি আমার’। তানজিনা তমা গেয়ে শোনান ‘আজি বাংলাদেশের হৃদয় হতে’, ‘ধনধান্যে পুষ্পে ভরা’ ও ‘মোদের গরব মোদের আশা’।
আয়োজনের মূল ভাবনা ছিল দেশের গানকে কেবল বিনোদন বা সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে জাতির ইতিহাস, আত্মপরিচয়, সংগ্রাম ও দেশপ্রেমের গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হিসেবে তুলে ধরা। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলন এবং মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে দেশাত্মবোধক গান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়। এসব গান মানুষকে সাহস জুগিয়েছে, ঐক্যবদ্ধ করেছে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর প্রেরণা দিয়েছে।
অনুষ্ঠানের স্বাগত বক্তব্য দেন ‘২৭ ধানমন্ডি-গাই বাংলার গান পর্ষদের’ আহ্বায়ক ফজলুল কবীর তুহিন। তিনি বলেন, “আমরা দেশের গান করছি কেবল একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য নয়; করছি আমাদের শেকড়, ইতিহাস, আত্মপরিচয় এবং দেশপ্রেমকে নতুন করে জাগিয়ে তোলার দায়বদ্ধতা থেকে।”
ফজলুল কবীর তুহিন আরও বলেন, “দেশের গান একটি জাতির জন্মকথা, সংগ্রাম, আত্মত্যাগ, স্বপ্ন ও ভালোবাসার ইতিহাস ধারণ করে। বর্তমান সময়ে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, সামাজিক সম্প্রীতি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা চর্চার গুরুত্ব আরও বেড়েছে। নতুন প্রজন্মের কাছে দেশের গান ও এর অন্তর্নিহিত ইতিহাস পৌঁছে দেওয়া এবং দেশপ্রেম, মানবিকতা ও মুক্তচিন্তার চর্চাকে উৎসাহিত করাই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা গান গাইতে চাই মানুষের জন্য, দেশের জন্য, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য। আমাদের এই আয়োজন কোনো বিভাজনের নয়, সম্প্রীতির; কোনো সংকীর্ণতার নয়, মুক্তচিন্তার।”
তিনি আশা প্রকাশ করেন, দেশের গানকে কেন্দ্র করে এ ধরনের সাংস্কৃতিক উদ্যোগ মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি, ঐক্য ও দেশপ্রেমের চেতনাকে আরও দৃঢ় করবে।
মন্তব্য করুন