
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্য দেওয়ার পর একজন সাক্ষী ট্রাইব্যুনালের কাছে নিরাপত্তা চিয়েছেন। সাক্ষী এস এম সায়েম ট্রাইব্যুনালের কাছে জানান যে তিনি নানা ধরনের নিরাপত্তাজনিত সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।
সাক্ষী হিসেবে সায়েম ৩ নভেম্বর জবানবন্দি দেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় মিরপুর অঞ্চলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন। আজ তাকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জেরা করেন।
জেরা শেষে সায়েম ট্রাইব্যুনালের কাছে নিরাপত্তা চান। তিনি জানান, তিনি মিরপুর ২ নম্বরে থাকেন। তার বাসার সামনে এক ব্যক্তি তাকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেছেন বলে অভিযোগ। এছাড়া, বাসার সামনে অচেনা ব্যক্তিরা মোটরসাইকেল নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের সামনে দুটি ককটেল নিক্ষেপ করা হয়, একটি তার সামনে পড়ে এবং আরেকটি তার থেকে প্রায় ১০ ফুট দূরে পড়ে। ককটেল ফাটিয়ে দুর্বৃত্তরা মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যায়। বাসার সামনে গিয়ে লোকজন তাঁর সম্পর্কে খোঁজখবর নিচ্ছে এবং বিদেশ থেকেও ফোন দিয়ে গালাগালি করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।
সাক্ষীর কথা শোনার পর ট্রাইব্যুনাল বলেন, শুধু সরকারের দিকে তাকিয়ে থাকলে হবে না। সবারই দায়িত্ব আছে। যারা আইন ভঙ্গ করেছেন, তাদের বেঁধে ফেলার দায়িত্ব সবার।
এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী বলেন, তার মক্কেলরা তো কারাগারেই আছেন। এই সাক্ষী এত দিন সাক্ষ্য দিলেন, তখন কোনো অভিযোগ করলেন না; আজ তার সাক্ষ্য শেষ হওয়ার পর নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ তুললেন।
ট্রাইব্যুনাল দুপুরের বিরতিতে যান। পরে বেলা আড়াইটায় আদালতের কার্যক্রম পুনরায় শুরু হলে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে লিখিত আবেদন দিয়ে সাক্ষী সায়েমের নিরাপত্তা চাওয়া হয়। ট্রাইব্যুনাল জানান, এই সাক্ষীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট থানাকে নির্দেশনা দেওয়া হবে। প্রসিকিউশন বলেছে, এতটুকু হলেই চলবে।
মন্তব্য করুন