
কুষ্টিয়া-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজাকে ঘিরে নারীসংক্রান্ত কথোপকথনের অডিও ও ভিডিও থাকার দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। এবার সেই অভিযোগের ব্যাখ্যা দিতে গিয়েছেন আমির হামজা। তিনি রাশেদের অভিযোগকে ষড়যন্ত্র বলে আখ্যা দিয়েছেন এবং আলেমদের সম্মানহানির চেষ্টার অভিযোগ তুলেছেন।
রাশেদ খাঁনের অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে আমির হামজা বলেন, মানুষের পেছনে যারা লেগে থাকে, আল্লাহ যেন তাদের কথা বন্ধ করে দেন। এ প্রসঙ্গে তিনি আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের প্রসঙ্গ টানেন এবং দাবি করেন যে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রিমান্ডে থাকাকালে তৎকালীন ডিসি ও এসপি তাকে সাঈদীর কণ্ঠের মতো একটি অডিও শুনিয়েছিলেন। তিনি আরও দাবি করেন যে সেই অডিওতে এক নারীর সঙ্গে সাঈদীর কথোপকথন ছিল এবং তা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছিল, যা ইসরায়েল থেকে আনা হয়েছিল। তার এই দাবিগুলো একটি অভিযোগ হিসেবেই রয়েছে এবং সরকারিভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
আমির হামজা দাবি করেন যে আল্লামা সাঈদীর বিরুদ্ধে অতীতে চারশ পৃষ্ঠার অভিযোগ তৈরি করা হয়েছিল, যার সঙ্গে বাস্তবতার মিল ছিল না এবং এসব ঘটনার পেছনে ভারতের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। তিনি বলেন, যারা সত্য কথা বলতে চান, তাদের থামিয়ে দিতে একই ধরনের ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে এবং কিছু লোককে ব্যবহার করা হচ্ছে। এর আগে গত ৫ নভেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে রাশেদ খাঁন কথোপকথনের অডিও প্রকাশের দাবি করেন এবং বলেন যে তথ্যপ্রমাণ তার হাতে রয়েছে। পরদিন ৬ নভেম্বর দেওয়া আরেক পোস্টে তিনি জানান যে জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ পর্যায়েও এ বিষয়ে আগে থেকে জানা ছিল।
রাশেদের প্রকাশিত কথিত অডিওতে এক ব্যক্তিকে অনুতপ্ত হওয়ার কথা বলতে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে ক্ষমা চাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করতে শোনা যায়। এই বিতর্কের পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ বা সরকারি সত্যতা পাওয়া যায়নি এবং দুই পক্ষের মধ্যে চলমান এই উত্তেজনা আগামীতে কীভাবে মীমাংসিত হয়েছে বা হবে, তা অপেক্ষায় রয়েছে।
মন্তব্য করুন