
রাঙামাটির পর্যটনকেন্দ্র সাজেকে বৃহস্পতিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সড়ক অবরোধের কর্মসূচি ঘোষণা দিয়েছে দুটি স্থানীয় সংগঠন। সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশন এবং সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি যৌথ বিবৃতিতে এই কর্মসূচির কথা জানায়।
সংগঠন দুটির নেতারা বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে বিবৃতিতে দাবি করেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (সন্তু লারমা)’র (জেএসএস) সশস্ত্র সদস্যরা এখনো সাজেকের বিভিন্ন স্থান দখল করে আছে। তারা প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিচ্ছে, গ্রামবাসীদের হুমকি দিচ্ছে ও ভয় দেখিয়ে বাড়িঘর ছেড়ে দিতে বাধ্য করছে। গ্রামবাসীদের ফোন কেড়ে নেওয়া হচ্ছে এবং সাধারণ জুমচাষিরা ভয়ে জুমে হলুদ ও ঝাড়ুফুলের বাগান পরিষ্কার করতে পারছেন না।’
তারা আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী লোক দেখানো অভিযান চালালেও জেএসএসের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। জনগণের নিরাপত্তা ও জানমালের জন্য এবং জেএসএসের সশস্ত্র সদস্যদের এলাকা ছাড়তে বাধ্য না করা পর্যন্ত এই কর্মসূচি চলবে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
যৌথ বিবৃতিতে ভ্রমণে আসা পর্যটকদের বুধবারের মধ্যে সাজেক ত্যাগ করার অনুরোধ জানানো হয়।
সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির সদস্যসচিব বিজয় কান্তি চাকমা বলেন, দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত অবরোধ স্থগিত করা হয়েছিল। পূজা শেষ হলে বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে পূর্বঘোষিত অবরোধ কার্যকর করা হবে। তিন দফা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ চালিয়ে যাওয়া হবে।
অপরদিকে, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (পিসিজেএসএস) সহ তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমা এই অভিযোগগুলিকে ভিত্তিহীন বলে অভিহিত করেন এবং বলেন, জেএসএসের বিরুদ্ধে একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
এর আগে ১১ অক্টোবর সকাল ছয়টা থেকে সাজেক পর্যটন সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু করেছিলেন সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশন। পরে তারা তিনটি দাবির ভিত্তিতে প্রশাসনের আশ্বাস পেয়ে দুই দিনের জন্য অবরোধ স্থগিত করে। তবে দুই দিনের মধ্যে প্রশাসন তাদের দাবি পূরণ না করায় ১৫ অক্টোবর তারা আবারও অবরোধের ডাক দেয়। পরে দুর্গাপূজা উৎসবকে কেন্দ্র করে ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত সড়ক অবরোধ কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ জার্নাল/সিএম
মন্তব্য করুন