
নাটোরের চলনবিলে শীতের ছোঁয়া লাগতেই অতিথি পাখির Aanagona শুরু হয়েছে। বিলের জলরাশি এবং চারপাশের সবুজ প্রকৃতিতে বিভিন্ন প্রজাতির পাখির ডানার ঝাপটানি ও কলকাকলিতে এলাকাটি মুখর হয়ে উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রকৃতিপ্রেমীরা এই প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখতে ভিড় করছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাদাবক, বালিহাঁস, পানকৌড়ি, ডাহুক, গাংচিল, কাঁদাখোঁচা এবং শামুকখোলসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি চলনবিলে দেখা যাচ্ছে। তারা কখনো অগভীর পানিতে ডুব দিয়ে খাবার খুঁজছে, কখনো বিলের ধারে দল বেঁধে বসে থাকছে। নীল আকাশে পাখির উড়ান ও জলরাশিতে তাদের বিচরণে মনোমুগ্ধকর দৃশ্য সৃষ্টি হয়েছে।
তবে পরিবেশকর্মীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, জলাভূমি সংকোচন, পানির স্বল্পতা এবং অবৈধ পাখি শিকার এই পাখিদের নিরাপদ বিচরণের জন্য বাধার সৃষ্টি করছে। চলনবিল পরিবেশ উন্নয়ন ও প্রকৃতি সংরক্ষণ ফোরামের সভাপতি জুলহাস কায়েম বলেন, শীতের আগমনে দেশের বিভিন্ন জলাভূমিতে পরিযায়ী পাখি আসতে শুরু করে। চলনবিলেও ইতিমধ্যে বিভিন্ন প্রজাতির পাখির উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। পাখির নিরাপদ আবাসস্থল নিশ্চিত করতে জলাভূমি সংরক্ষণ, শিকার বন্ধ এবং স্থানীয় মানুষের সম্পৃক্ততা জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।
স্থানীয় যুবক এবি সিদ্দিক, আবু সায়েদ ও রাজু আহমেদের মতে, অতিথি পাখি শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য বাড়ায় না, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং ক্ষতিকর পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখে। তারা চলনবিলে অভয়ারণ্য গড়া এবং পাখি শিকার বন্ধে প্রশাসনের নজরদারি ও জনসচেতনতা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।
পরিবেশবাদী সংগঠন এবং প্রশাসন অবৈধ পাখি শিকার বন্ধে অভিযান চালাচ্ছে। সিংড়া উপজেলায় পরিবেশকর্মীদের অভিযানে আট ব্যক্তিকে পাখি শিকারের অপরাধে অর্থদণ্ড ও বিভিন্ন মেয়াদে জেলদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অভিযানে পাঁচটি বক উদ্ধার করা হয় এবং পরে সিংড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল রিফাত উপজেলা পরিষদ চত্বরে পাখিগুলো মুক্তি দেন।
আবদুল্লাহ আল রিফাত বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পাখির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। পাখি শিকার বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। আইন অমান্য করে পাখি শিকার করলে জেল-জরিমানাসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নাটোর-৩ (সিংড়া) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম অনু বলেন, চলনবিল এই অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ এবং জীববৈচিত্র্য। অতিথি পাখি রক্ষায় সবার সচেতনতা প্রয়োজন। পাখি শিকার বন্ধ, জলাভূমি সংরক্ষণ এবং পাখির নিরাপদ আবাসস্থল তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তবে পাখি শিকারের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা বা জলাভূমি সংকোচনের পরিমাণ সম্পর্কে প্রতিবেদনে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
মন্তব্য করুন