
দুর্নীতি ও কূটনৈতিক অসদাচরণের অভিযোগে গ্রিসে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত কিমবার্লি গিলফয়েলকে হোয়াইট হাউস পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে। মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি কেটি জ্যাকারিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পরবর্তীতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সংবাদদাতাদের জানান, গিলফয়েল গ্রিসে ভালো কাজ করলেও তিনি আর ওই পদে থাকছেন না। ট্রাম্প স্পষ্ট বলেন, সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত অভিযোগের বিষয়ে তিনি যা পড়েছেন, তা তাঁর মোটেও পছন্দ হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী দৈনিক ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল প্রথমে গিলফয়েলের আর্থিক কেলেঙ্কারির খবর প্রকাশ করে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির হাতে আসা গোপন বার্তাগুলোতে দেখা যায়, ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের মিত্র ও রাজনৈতিক তহবিল সংগ্রাহক এরিক ডিটার্সের কাছে গিলফয়েল বড় পরিমাণ অর্থ দাবি করেছেন। ‘সিগন্যাল’ অ্যাপের মাধ্যমে প্রেরিত একটি বার্তায় গিলফয়েল ডিটার্সকে লিখেছেন, “আমেরিকান এক্সপ্রেসে টাকা ট্রান্সফার করলে কোথাও কোনো রেকর্ড থাকবে না।” এমনকি গত জুলাইয়ে সিনেটে তাঁর নিয়োগ চূড়ান্ত হওয়ার শুনানির মাত্র কিছু দিন আগেও তিনি এই অর্থ প্রদানের জন্য তাগিদ দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ আছে।
আর্থিক অনিয়মের পাশাপাশি গিলফয়েলের বিরুদ্ধে চরম শিষ্টাচারবহির্ভূত আচরণের অভিযোগও উঠেছে। ফাঁস হওয়া একটি অডিও রেকর্ডে এথেন্সে অবস্থানকালে গ্রিক ব্যবসায়ীদের খরচে ব্যক্তিগত বিমানে সফর করার বড়াই করতে শোনা যায় তাকে। একই রেকর্ডে একটি স্থানীয় কর্মকর্তার কাছে তিনি কথিতভাবে বলেছেন, “যুক্তরাষ্ট্র চাইলে যেকোনো সময় গ্রিসের সরকার ফেলে দিতে পারে।”
এই অভিযোগগুলো প্রকাশ্যে আসার পর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও চরম ক্ষুব্ধ হয়েছেন বলে জানা গেছে। গত সপ্তাহে এথেন্স সফরে গিয়ে গিলফয়েলের সঙ্গে রুবিওর ছবি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল।
তবে গিলফয়েলের আইনজীবীরা সব অভিযোগ ও বার্তার সত্যতা পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা একটি বিবৃতিতে গিলফয়েল দাবি করেছেন, রাষ্ট্রদূত হওয়ার আগে তিনি ডিটার্সের পরামর্শক হিসেবে কাজ করেছিলেন এবং মূলত সেই কাজের বকেয়া পাওনাই তিনি চেয়েছিলেন। ট্রাম্পের প্রতি আজীবন অনুগত থাকার কথা বলেন তিনি লিখেছেন, ভিত্তিহীন অভিযোগ দিয়ে তাঁর কয়েক দশকের জনসেবাকে ম্লান হতে দেবেন না।
ডিটার্স গিলফয়েলের এই দাবিকে “চরম মিথ্যাচার” বলে উপেক্ষা করেছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন, গিলফয়েলকে কোনো অর্থ দেননি এবং তাঁর কাছে কোনো দেনাও নেই। ডিটার্স উল্টো আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “আমেরিকান কূটনীতির জন্য আজ চমৎকার একটি দিন।”
৫৭ বছর বয়সী কিমবার্লি গিলফয়েল একসময় ফক্স নিউজের উপস্থাপক ছিলেন। ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসনের সাবেক স্ত্রী তিনি পরবর্তীতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বড় ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রের দীর্ঘদিনের বাগদত্তা হিসেবে পরিচিতি পান। তবে ২০২৪ সালের শেষ দিকে তাদের সম্পর্ক বিচ্ছেদ হয়ে যায়।
মন্তব্য করুন