
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুটি মামলা দায়ের করেছে। দুদকের অনুসন্ধানে মনিরুল ইসলামের শ্যালক রেজাউল করিম শাহীনের ব্যাংক হিসাবে হাজার হাজার কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য উঠে এসেছে।
দুদকের অনুসন্ধানসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রভাবশালী পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত মনিরুল ইসলামের সম্পদ ও আর্থিক লেনদেন নিয়ে তদন্ত করতে গিয়ে বিপুল সম্পদের সন্ধান পায় সংস্থাটি। অনুসন্ধানে মনিরুলের শ্যালক রেজাউল করিম শাহীনের ব্যাংক হিসাবে ১০ হাজার ৪৫ কোটি টাকার অর্থ পাচারের তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে দুদক। এছাড়া তাঁর নামে ২৩ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের সন্ধান মিলেছে। এসব সম্পদের বৈধ আয়ের উৎ্স সম্পর্কে সন্তোষজনক তথ্য পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ তদন্তসংশ্লিষ্টদের।
দুদকের উপপরিচালক মোজাম্মিল হোসেনের ভাষ্য অনুযায়ী, মনিরুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রী সাবেক অতিরিক্ত সচিব শায়লা ফারজানা নিজেদের সম্পদের তথ্য গোপন করতে শ্যালক রেজাউল করিম শাহীনের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন করেছেন বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। অনুসন্ধানে আরও দেখা গেছে, মনিরুলের বাবা শাহীনের নামে ২৫ কোটি টাকা দান করেছেন বলে দেখানো হয়েছে। তবে এ দাবির পক্ষে গ্রহণযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে দুদক।
এছাড়া রেজাউল করিম শাহীনের স্ত্রী সানজিদা খানম টুম্পার ব্যাংক হিসাবেও ৫৮ কোটি টাকার বেশি অর্থ পাচারের তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছে সংস্থাটি। তাঁর নামে ১৫ কোটি টাকার বেশি অবৈধ সম্পদেরও সন্ধান মিলেছে। মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার ও দুর্নীতির আরও অভিযোগ খতিয়ে দেখছে দুদক। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের দুটি বেসরকারি সংস্থায় অর্থ পাচার এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।
এসব অভিযোগের অনুসন্ধান এখনো চলমান বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। দুদকের করা দুটি মামলার মাধ্যমে মনিরুল ইসলাম ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত আর্থিক অনিয়মের অভিযোগগুলো আইনি প্রক্রিয়ায় এগোবে। তবে অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা আদালতে প্রমাণিত হওয়া সাপেক্ষে তাঁদের দায় নির্ধারিত হবে।
মন্তব্য করুন