২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০৪ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

চরম ঝুঁকিতে দেশের পাঁচ শতাধিক সরকারি-বেসরকারি ওয়েবসাইট

পিএইচপির নতুন নিরাপত্তা ত্রুটিতে দেশের পাঁচ শতাধিক ওয়েবসাইট ঝুঁকিতে

প্রোগ্রামিং ভাষা পিএইচপিতে নতুন একটি নিরাপত্তাদুর্বলতা শনাক্ত হওয়ায় বাংলাদেশের পাঁচ শতাধিক সরকারি ও বেসরকারি ওয়েবসাইট চরম সাইবার ঝুঁকির মুখে পড়েছে। সরকারের সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা বিজিডি ই-গভ সার্ট এ বিষয়ে জরুরি সতর্কবার্তা জারি করেছে। তবে সংস্থাটি জানিয়েছে, বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান তাদের ওয়েবসাইটের পুরনো সংস্করণ আপডেট করেনি। এর ফলে ডিজিটাল সেবার নিরাপত্তা এবং নাগরিকদের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ফাঁস হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিশ্বজুড়ে ওয়েবসাইটের ব্যাক-এন্ড বা নেপথ্য প্রক্রিয়ায় প্রায় ৭০ শতাংশ ক্ষেত্রে পিএইচপি ব্যবহৃত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ক্যালিফ ও উইজের গবেষকরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে পিএইচপিতে দুটি গুরুতর ত্রুটি শনাক্ত করেন, যা ২১ অক্টোবর পিএইচপি কর্তৃপক্ষ সংশোধন করে। কিন্তু ২৩ অক্টোবর পিএইচপির সেশন ব্যবস্থাপনা এবং ফাইল আপলোডের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রে আরেকটি নতুন ত্রুটি শনাক্ত হয়। এর জন্য এখনও কোনো নিরাপত্তা সংশোধনী বা প্যাচ প্রকাশ করা হয়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে হ্যাকাররা সার্ভারে অননুমোদিত নির্দেশনা চালাতে পারেন।

বিজিডি ই-গভ সার্টের সাইবার হুমকি বুদ্ধিমত্তা ইউনিটের নজরদারিতে দেখা গেছে, দেশের আর্থিক ও জনগুরুত্বপূর্ণ সরকারি সাইটসহ অন্তত পাঁচ শতাধিক ওয়েবসাইট বর্তমানে ঝুঁকিতে রয়েছে। সার্টের প্রকল্প পরিচালক নাজমুল হক খন্দকার এই সংখ্যাকে উদ্বেগজনক বলে বর্ণনা করেছেন।

নিরাপত্তা হামলা রোধ করতে সার্ট সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে পিএইচপির ‘সেশন আপলোড প্রগ্রেস’ সুবিধা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা, সার্ভারের প্রয়োজনীয় সেবা পুনরায় চালু করা, বিন্যাস পরীক্ষা করা এবং সন্দেহজনক কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করার পরামর্শ দিয়েছে। সতর্কবার্তার পরেও অনেক প্রতিষ্ঠান নিরাপত্তা আপডেটে গাফিলতি করছে বলে জানা গেছে।

একটি বেসরকারি হোস্টিং কোম্পানির প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা জুনায়েদ মিয়াজী বলেন, অনেকে ওয়েবসাইট সচল থাকাকেই নিরাপদ থাকার লক্ষণ মনে করেন, যার কারণে নিয়মিত সফটওয়্যার আপডেট এবং ত্রুটি সংশোধনের বিষয়টিতে তারা গাফিলতি করেন।

বিজিডি ই-গভ সার্ট মূলত সাইবার হুমকি শনাক্ত এবং সতর্কবার্তা দেওয়ার কাজ করে। কিন্তু সেই নির্দেশনা মানা হচ্ছে কিনা তা পর্যালোচনার কোনো নির্দিষ্ট মেকানিজম নেই। তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ সুমন আহমেদ সাবির মতে, ওয়েবসাইট নিরাপত্তার মূল দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের, তবে জাতীয় পর্যায়ে সাইবার নিরাপত্তার একটি নির্দিষ্ট মানদণ্ড এবং তা অনুসরণ করা হচ্ছে কিনা তা নিশ্চিত করার জন্য একটি শক্তিশালী তদারকি কাঠামো প্রয়োজন।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মাঝরাতে ভোটের মোড়: ৫১-৫১ আসনে আটকে ইসরায়েলের ভাগ্য!

১

আঘাত হেনেছে ‘অর্ণব’, দেশের সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত

২

সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের জন্য ঢাকা-টোকিও সম্পর্ক সুদৃঢ় চান প্রধানমন্ত্রী

৩

চাকরির ফাঁদে রাশিয়ার রণাঙ্গনে বাংলাদেশিরা!

৪

বিনিয়োগ বাড়াতে জেবিআইসি গভর্নরের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক

৫

শনিবার এইচএসসির ফল প্রকাশ: অনলাইনে ও এসএমএসে জানবেন যেভাবে

৬

অন্ধ্র উপকূলে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর তাণ্ডব: বাংলাদেশে বৃষ্টির পূর্বাভাস

৭

চরম ঝুঁকিতে দেশের পাঁচ শতাধিক সরকারি-বেসরকারি ওয়েবসাইট

৮

লিওনেল মেসি ব্যালন ডি’অরে নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়লেন

৯

ইমরান হাশমির নাম এলো মুম্বাইয়ে গুলিবর্ষণ তদন্তে

১০

সানিয়া মির্জা নতুন ভূমিকায় লড়ছেন নির্বাচনে

১১

স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে বাংলাদেশে সহযোগিতা বাড়াতে হবে: ডা.জুবাইদা

১২

ভোলায় নারীর অধিকার ও সমতা প্রতিষ্ঠায় স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে আলোচনা সভা

১৩

শেরপুরে বাস-সিএনজি সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৪

১৪

ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে: তারেক রহমান

১৫

হাতিরঝিলে দুর্গন্ধের উৎস কারওয়ান বাজার-কাঁঠালবাগানের বর্জ্য: রাজউক চেয়ারম্যান

১৬

বাবার সঙ্গে স্পিকারের পুরোনো ছবি শেয়ার জয়ের, নেটিজেনদের রসিকতা ‘জমি নিশ্চিত’

১৭

তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসায় তাকাইচি, উন্নয়নে পাশে থাকার আশ্বাস

১৮

পিএসজি মরিয়া চেলসির ব্রাজিলিয়ান বিস্ময় বালককে পেতে

১৯

‘ভালোবাসার মায়া’ নিয়ে এলেন নাজনীন হাসান খান

২০