
জাপানে বছরে এক লাখ কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনা নিয়ে দেশের কিছু সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত খবরকে ভিত্তিহীন বলে নাকচ করেছে জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের প্রেস সেক্রেটারি কিতামুরা তোশিহিরো জানিয়েছেন যে, বাংলাদেশ থেকে বছরে এক লাখ কর্মী নেওয়ার যে খবর ছড়িয়েছে, তার কোনো সত্যতা নেই। ২৭ অক্টোবর দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর শীর্ষ বৈঠকে এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি। তিনি আরও জানান যে, এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে দুই দেশের শীর্ষ বৈঠকের আনুষ্ঠানিক বিবরণ দেখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত শীর্ষ বৈঠকের বিবরণ অনুসারে, বৈঠকটি মূলত অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বিনিয়োগ, আঞ্চলিক যোগাযোগ ও নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। সেখানে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে জাপানি বেসরকারি খাতের এক ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন এবং দুই লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রত্যাশার কথা উল্লেখ করেছেন। তবে বৈঠকের কোনো অনুষ্ঠানিক রেকর্ডে বাংলাদেশ থেকে এক লাখ কর্মী গ্রহণের কোনো সিদ্ধান্তের উল্লেখ নেই।
একইসঙ্গে কিতামুরা জানান যে, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জাপানে কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনা থাকলেও জাপান সরকারের নির্দিষ্ট সংখ্যক কর্মী গ্রহণের বিষয়টি পুরোপুরি ভিন্ন। বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে ‘স্পেসিফায়েড স্কিলড ওয়ার্কার’ (এসএসডব্লিউ) এবং ‘টেকনিক্যাল ইন্টার্ন’ হিসেবে জাপানে লোক যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। ২০১৯ সালে দুই দেশের মধ্যে এই ধরনের একটি সহযোগিতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল।
তবে জাপানে কর্মী যাওয়ার প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত কঠোর ও ভাষাগত দক্ষতার ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় বর্তমানে বছরে এক লাখের মত বিপুল সংখ্যক কর্মী পাঠানোর কোনো বাস্তব পরিস্থিতি বা চুক্তি হয়নি। ফলে জাপানের এই বক্তব্য বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রতিবেদন প্রকাশের প্রেক্ষাপট হিসেবে কাজ করতে পারে।
মন্তব্য করুন