৩১ অক্টোবর ২০২৬, ৩:০৪ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা ব্যর্থ, বেঁচে ফিরে ভয়াবহ অভিজ্ঞতা জানালেন নারী

টেনেসিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা ব্যর্থ: বেঁচে ফেরা নারীর ভয়ংকর দুঃসহ অভিজ্ঞতা

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর বেঁচে ফেরা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নারী ক্রিস্টিয়া পাইক সেই ভয়ংকর অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এলেও তিনি এখনো তীব্র শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণায় দিন কাটাচ্ছেন।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর রিভারবেন্ড কারাগারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর কক্ষে তাঁকে স্থানান্তরিত করা হয়। মৃত্যুর জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলেন তিনি। শেষ মুহূর্তে পাশে থাকা মানুষদের কৃতজ্ঞতা জানান এবং মৃত্যুদণ্ড প্রত্যক্ষকারীদের প্রতি ভালোবাসা ও সহমর্মিতা প্রকাশ করেন। পরে তাঁর শরীরে বিষাক্ত ইনজেকশন প্রয়োগ করা হয়। দুটি ইনজেকশন দেওয়ার পরও মৃত্যু না হওয়ায় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কয়েক দিন পর জ্ঞান ফিরে পান তিনি।

সেই মুহূর্তের কথা স্মরণ করে ক্রিস্টিয়া বলেন, হাসপাতালের বিছানায় জেগে উঠে প্রচণ্ড ব্যথা ও বিভ্রান্তিতে ছিলেন। কিছুই বুঝতে পারছিলেন না। এরপর থেকে কোনো মুহূর্তই কাটেনি যে শরীরে ব্যথা অনুভব করেননি। বর্তমানে কারাগারের মেডিকেল ওয়ার্ডে একাকী রাখা হয়েছে তাঁকে। দীর্ঘ ২৮ বছর নির্জন কারাবাসের পর আবারও একই পরিস্থিতিতে পড়ায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন তিনি। তাঁর ভাষায়, সেই রাতের পর থেকে মানুষের সংস্পর্শ থেকে দূরে থাকতে হচ্ছে। এই নিঃসঙ্গতা তাঁর কষ্ট বাড়িয়েছে। শারীরিক যন্ত্রণার চেয়ে মানসিক কষ্ট তাঁকে বেশি বিপর্যস্ত করে তুলেছে। ধীরে ধীরে সুস্থ হচ্ছেন এবং শক্তি ফিরে পাচ্ছেন, তবে সুস্থ হয়ে ওঠা এবং ভালো থাকা সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়।

নিজের অতীত অপরাধের কথাও স্মরণ করেছেন ক্রিস্টিয়া। তিনি বলেন, তাঁর হাতে নিহত ব্যক্তির পরিবারের কষ্টের কথা ভাবছেন এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ব্যর্থ প্রচেষ্টায় ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সহমর্মিতা জানান। তবে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাওয়া ভালোবাসা ও সমর্থন তাঁকে বেঁচে থাকার শক্তি জোগাচ্ছে। তিনি জানান, অনেক মানুষ তাঁর জন্য প্রার্থনা করেছেন এবং তাঁকে একজন মানুষ হিসেবে দেখেন। চিকিৎসক, নার্স, আইনজীবী ও তাঁর পাশে থাকা সবাইকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

শেষাংশে ক্রিস্টিয়া জানান, তিনি জানেন না কেন সেদিন বেঁচে গেলেন এবং সামনে কী অপেক্ষা করছে। এই মুহূর্তে আশা ধরে রাখাই সবচেয়ে কঠিন। আপাতত শুধু সুস্থ হয়ে ওঠার চেষ্টা করছেন। ১৯৯৬ সালে এক সহপাঠীকে হত্যার ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হন ক্রিস্টিয়া পাইক। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

জাপানে বছরে এক লাখ কর্মী নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়নি: টোকিও

১

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা ব্যর্থ, বেঁচে ফিরে ভয়াবহ অভিজ্ঞতা জানালেন নারী

২

রবিবার গঠিত হচ্ছে পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বোর্ড

৩

সৌদি আরবে কারখানায় আগুনে নিহত বাকি পাঁচজনের মরদেহ আসছে শনিবার

৪

বছরের শেষ নাগাদ পণ্যের দাম বাড়তে পারে ২৩ শতাংশ: বিশ্বব্যাংক

৫

প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটি, তদন্তে কমিটি

৬

সৌরবিদ্যুৎ : বাংলাদেশে আশার আলো- পর্ব ২

৭

বসনিয়ায় ইতালির সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, নিহত ৪

৮

‘মরার হগুন উড়ত্যাছে, গোয়াল ঘরে ধুমা দে’

৯

যুবলীগের মিছিলের সময় পিকআপে থাকা ৪ পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার

১০

সিরাজগঞ্জে হেরোইন সহ ১ জন গ্রেফতার

১১

নদীর ৫০ গজ দূরে বাইক উদ্ধার, তাহসিফের কি না যাচাই করছে পিবিআই

১২

ব্যাটারিচালিত রিকশার গতি ও নিবন্ধন ফি নির্ধারণ, প্রজ্ঞাপন জারি

১৩

এলডিসি উত্তরণে আরো তিন বছর সময় পেল বাংলাদেশ

১৪

সরকারি বাসা ভাড়া বা সাবলেট দিলেই বরাদ্দ বাতিল

১৫

স্বরাষ্ট্র ও জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে এনসিপির বিক্ষোভ

১৬

উখিয়ায় ১৪৪ ধারা জারি

১৭

পুলিশের গাড়ির সামনে যুবলীগের বিক্ষোভ, ৪ পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার

১৮

১ নভেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে না সেন্ট মার্টিনে জাহাজ চলাচল

১৯

যান্ত্রিক ত্রুটি সারিয়ে ঢাকার পথে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী ফ্লাইট

২০