
২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে বাংলাদেশে তীব্র তাপপ্রবাহের পরিবেশে ৫,৫১৫টি অপরিণত শিশুর জন্ম হয়েছে, যা স্বাভাবিক এপ্রিল মাসের তুলনায় ১১ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি। জিরো কার্বন অ্যানালিটিকস (জেডসিএ) এর একটি নতুন প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে ২ নভেম্বর, ২০২৬ তারিখে।
এই রিকার্ডড সংখ্যা প্রায় ৪৫ গুণ বেড়ে যায় তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে। বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মানুষের কর্মকাণ্ডের ফলে সৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনে ১,৪৭৯ শিশুর অপরিণত জন্ম ঘটেছে। অর্থাৎ, মানুষের কর্মকাণ্ডের কারণে সৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনে ২০২৪ সালের এপ্রিলের তাপপ্রবাহের সম্ভাবনা প্রায় ৪৫ গুণ বেড়ে গিয়েছিল। এই তাপপ্রবাহের কারণে প্রতি এক হাজার শিশুর জন্মে প্রায় ১৯টি অতিরিক্ত অপরিণত শিশুর জন্ম হয়েছে। বিশ্বে অপরিণত শিশুর জন্মের হারের দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান উদ্বেগজনক; ২০২০ সালে দেশে মোট শিশুর ১৬ দশমিক ২ শতাংশ সময়ের আগে জন্ম হয়েছিল, যা বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের হার ছিল সবচেয়ে বেশি। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম উচ্চমানের অপরিণত জন্ম হার ছিল এই দেশটির, যা ১৩ দশমিক ২ শতাংশের হারের সাথে তুলনা করে প্রধান চর্চা করা যায়।
গবেষণার মতে, ২০৪১ থেকে ২০৬০ সাল পর্যন্ত ভবিষ্যৎ প্রবেশবার্তা অনুযায়ী, একটি স্বাভাবিক এপ্রিল মাসেও বাংলাদেশে অতিরিক্ত প্রায় ১,৫০০ অপরিণত শিশু জন্ম হতে পারে, যা সম্ভাব্য সংখ্যা ৬৩০ থেকে ২ হাজার ৯০০ এর মধ্যে পড়তে পারে। ১৯৮৫ থেকে ২০১৪ সালের জলবায়ু পরিস্থিতির সাথে তুলনা করে এ হিসাব করা হয়েছে। বিভাগগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অতিরিক্ত অপরিণত শিশুর জন্মের আশঙ্কা ঢাকা বিভাগে থাকে, যারপর চট্টগ্রাম ও রাজশাহী, এবং ময়মনসিংহ বিভাগে এটি চতুর্থ স্থান রাখতে পারে।
ঢাকা ও চট্টগ্রামে মোট ঘটনার ৪৭ শতাংশ অপরিণত শিশু ঘটেছে, যা দেশের মোট ৫,৫১৫টি বেশি অপরিণত শিশুর সংখ্যার ৯৪ শতাংশ। বিশেষ করে ময়মনসিংহ বিভাগে এই হার ২৪টি প্রতি এক হাজার শিশুর জন্য, যা দেশের চতুর্থ বেশি। সেই প্রথম বছরের কারণে তাপমাত্রা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় গড়ে ৩ দশমিক ৫৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল, যা দেশের আট বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ। অতিরিক্ত অপরিণত শিশুর হারও ময়মনসিংহে সবচেয়ে বেশি, যা দেশের ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে।
গবেষণার অনুযায়ী, দেশের সব বিভাগেই তাপপ্রবাহের কারণে অপরিণত জন্মের ঝুঁকি আনুমানিক ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বেড়েছে, যা জনসংখ্যা বেশি হওয়ায় ঢাকা ও চট্টগ্রামে মোট ঘটনা বেশি ঘটেছে। তবে অন্যান্য বিভাগেও ঝুঁকির মাত্রা উল্লেখযোগ্য।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তীব্র তাপপ্রবাহের সম্ভাবনা প্রায় ৪৫ গুণ বেড়ে গেছে এবং এটি দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যগত ক্ষতির সম্ভাবনাও বৃদ্ধি করছে। সমস্ত ৮টি বিভাগে তাপমাত্রা বৃদ্ধির ঝুঁকি ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বেড়েছে। গর্ভবতী নারীদের জন্য অতিরিক্ত গরমের ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি। সমস্ত ৮টি বিভাগে তাপমাত্রা বৃদ্ধির ঝুঁকি ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বেড়েছে। গর্ভকালীন স্বাস্থ্যসেবার মধ্যে তাপজনিত ঝুঁকি যুক্ত করা সম্পূর্ণ হয়নি। নিয়মিত গর্ভকালীন স্বাস্থ্যসেবার অংশ হিসেবে এই বিষয়টি এখনো যুক্ত করা যায় না।
জিরো কার্বন অ্যানালিটিকসের প্রধান লেখক জোয়ান বেন্টলি-ম্যাককিউন এই গবেষণার বিশ্লেষণে বলেছেন যে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তীব্র তাপপ্রবাহ আরও বাড়ছে এবং এটি অপরিণত শিশুর জন্মের ঝুঁকি মতো দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যগত ক্ষতির সম্ভাবনাও বৃদ্ধি করছে। তিনি যুক্তি দিয়েছেন যে বাংলাদেশের অবদান জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সামূহিকভাবে কম, তবে এই দেশটি ভবিষ্যৎ প্রবণতার সাথে সংঘর্ষ পড়ে থাকবে। তিনি প্রস্তাব করেছেন যে গর্ভকালীন স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময় তাপজনিত ঝুঁকি শনাক্ত করা, মাতৃস্বাস্থ্যসেবার জোরদার করা, নিরাপদ পানি ও শীতল পরিবেশের সুযোগ বৃদ্ধি করা এবং আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা প্রয়োজন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উদ্যোগে ২০২৪ সালে একটি তাপজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে শিশু ও গর্ভবতী নারীদের সুরক্ষায় জাতীয় নির্দেশিকা চালু করা হয়েছে। এই নির্দেশিকার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ইউনিসেফের সহযোগিতা নিয়েছে। তবে গবেষণার অনুযায়ী এই প্রস্তাবিত পরিকল্পনাগুলো সম্পূর্ণ নিরোধ করে না।
বাংলাদেশ জার্নাল এই গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করেছে।
মন্তব্য করুন