
নিজস্ব প্রতিবেদক (কুষ্টিয়া)
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ৫ নং রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোঃ হাসিনুল হক নিজ এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে তাঁর প্রচারণার ধরনে রয়েছে ভিন্নতা। গতানুগতিক নির্বাচনী প্রচারণার বাইরে গিয়ে তিনি ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে ছুটে যাচ্ছেন, শুনছেন তাঁদের সুখ-দুঃখ, অভাব-অভিযোগ ও দীর্ঘদিনের সমস্যার কথা। পাশাপাশি সামর্থ্য অনুযায়ী অসহায় ও সমস্যাগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন।

রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের একটি বড় অংশ চরাঞ্চল হওয়ায় এখানকার মানুষের জীবনযাত্রায় রয়েছে নানা প্রতিবন্ধকতা। যোগাযোগব্যবস্থা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। এসব সমস্যা সরেজমিনে জানার জন্য তিনি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন।
তবে রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের অন্যতম উদ্বেগের বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে মাদকের বিস্তার। স্থানীয় পর্যায়ে মাদকদ্রব্যের অনুপ্রবেশ ও মাদক ব্যবসার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী ভারত থেকে বিভিন্ন পথে মাদক আসার অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে এলাকার তরুণ ও যুবসমাজের একটি অংশ মাদকের ঝুঁকিতে পড়ছে বলে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।
এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোঃ হাসিনুল হক। তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলছেন এবং মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির চেষ্টা করছেন। তাঁর বক্তব্য, একটি সুস্থ, নিরাপদ ও সুন্দর সমাজ গঠনের জন্য মাদক থেকে যুবসমাজকে দূরে রাখা অত্যন্ত জরুরি।

তিনি মনে করেন, শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান দিয়ে মাদকের সমস্যা পুরোপুরি সমাধান সম্ভব নয়; প্রয়োজন সামাজিক প্রতিরোধ, পারিবারিক সচেতনতা, তরুণদের কর্মসংস্থান এবং জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ।
এলাকাবাসীর সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় মাদক ব্যবসা ও মাদকসেবনের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের সম্পৃক্ত করে মাদকবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরছেন।
মোঃ হাসিনুল হকের নির্বাচনী প্রচারণায় স্থানীয় উন্নয়ন, জনসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশেষ করে চরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করার বিষয়টি তাঁর আলোচনায় প্রাধান্য পাচ্ছে।

রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের আগামী দিনের উন্নয়ন ও সামাজিক পরিবেশ কেমন হবে, তা নির্ধারণে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এখন দেখার বিষয়, নির্বাচনী প্রচারণায় উঠে আসা এসব প্রতিশ্রুতি ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ভবিষ্যতে কী ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
মন্তব্য করুন