
নাটোরের সিংড়া উপজেলার চলনবিল এলাকার বিয়াশ গ্রামে পাখি শিকার নিয়ে 생긴 বিতর্কে একজন যুবককে এয়ারগান দিয়ে গুলি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনা শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকাল প্রায় ১০:৩০ টার দিকে ঘটেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
আহত যুবক হলেন শহিদুল ইসলাম (৩৮), বিয়াশ গ্রামের জশমত আলীর ছেলে। পেশায় তিনি মাছ ব্যবসায়ী। অভিযুক্ত হলেন একই গ্রামের ছায়িম হোসেনের ছেলে সজীব হোসেন (২৬)।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় লোকজনের বিবরণ অনুযায়ী, সজীব হোসেন এয়ারগান দিয়ে গ্রামের বিভিন্ন পুকুর থেকে পানকৌড়ি পাখি শিকার করতেন। ঘটনার দিন সকালে তিনি একটি পুকুর থেকে চারটি পানকৌড়ি শিকার করার পর অন্য একটি পুকুরে শিকার করতে গেলে শহিদুল ইসলাম তাকে বাধা দিলেন। এ নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে বিতর্ক হয়ে উঠল। অভিযোগ অনুযায়ী, একপর্যায়ে ক্ষুদ্ধ হয়ে সজীব হোসেন শহিদুল ইসলামকে লক্ষ্য করে গুলি চালালেন। গুলি লেগে শহিদুল ইসলাম আহত হয়ে পড়লেন। ঘটনাস্থলে লোকজন জড়ালে সজীব হোসেন পালিয়ে যান।
ঘটনার পর স্বজনরা শহিদুল ইসলামকে প্রথমে নাটোর শহরের জনসেবা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে এক্স-রে করার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়, পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর শহিদুল ইসলামকে ভর্তি করা হয়েছে।
আহত শহিদুল ইসলাম হাসপাতালে কথা বলার সময় দাবি করেছেন, সজীব হোসেন প্রায়ই এয়ারগান দিয়ে পাখি শিকার করেন। আজ তাঁকে শিকার করতে দেখে নিষেধ করার সময় বিতর্ক হয়ে গেলে সজীব তাঁর পেটে গুলি চালালেন।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মুখপাত্র শেখ শামীম আহমেদ জানান, শহিদুল ইসলামের বুক ও পেটের মাঝখানে একটি ক্ষত পাওয়া গেছে। এক্স-রে রিপোর্টে সেখানে কোনো পিলেট বা ছররা গুলি পাওয়া যায়নি। যেহেতু রোগী এয়ারগান দিয়ে গুলি করার কথা জানিয়েছেন, বিষয়টি আরও নিশ্চিত করার জন্য আবার এক্স-রে ও আলট্রাসনোগ্রাম করার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ভুক্তভোগীর ভাতিজা ফরিদ উদ্দিন বলেন, একটা গুলি শহিদুলের ডান পাঁজরের ভেতরে এখনো আছে। ডাক্তাররা গুলিটি বের করার জন্য অপারেশন করবে বলে জানিয়েছেন। অভিযুক্ত যুবক পালিয়ে গেলে স্বজনরা এখনো থানায় অভিযোগ দিতে পারেননি। তিনি জানান, খুব দ্রুত থানায় অভিযোগ দেওয়া হবে।
সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম ঘটনার বিষয়ে জানান, একটি যুবককে এয়ারগান দিয়ে গুলি করা হয়েছে বলে শুনেছেন। একটি গুলি শহিদুলের শরীরে লেগেছে। চিকিৎসার কাজে স্বজনেরা ব্যস্ত থাকায় এখনো থানায় অভিযোগ করতে আসেননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে उन्होंने জানানো।
অভিযুক্ত সজীব হোসেন ঘটনার পর থেকে ফরার। তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
মন্তব্য করুন