
জাতিসংঘের অভিবাসনবিষয়ক সংস্থা আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) প্রধান অ্যামি পোপ জানিয়েছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে মানুষের জীবিকা হুমকির মুখে পড়ছে এবং অনেকে বাধ্যতামূলকভাবে বাসস্থান ত্যাগ করতে বাধ্য হচ্ছেন। নয়াদিল্লি সফরের সময় এএফপিকে দেওয়া এক বক্তব্যে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) তিনি এই তথ্য জানান।
আইওএম মহাপরিচালকের মতে, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, বন্যা ও খরা ঘরবাড়ি এবং কৃষিজমিকে হুমকির মুখে ফেলছে। খাদ্য উৎপাদন ও গবাদিপশুকে খাওয়াতে সমস্যা হলে মানুষের বাস্তুচ্যুত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় প্রযুক্তি ও সরকারি উদ্যোগের মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতি সীমিত রাখা সম্ভব।
সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে ২০৫০ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার ৪ কোটি ৫ লাখ পর্যন্ত মানুষ বাস্তুচ্যুত হতে পারেন। গত ২৬ আগস্ট নেপালে পাহাড় ও হিমবাহ ধসের ফলে সৃষ্ট প্রাণঘাতী বন্যার উদাহরণ দিয়ে পোপ জানান, আইওএম সেখানে মানবিক সহায়তা পাঠিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, তাপপ্রবাহ থেকে বাঁচতে এবং জীবিকা অর্জনের জন্য গ্রামাঞ্চল ছেড়ে শহরে চলে আসার প্রবণতা ভারতের মতো দেশগুলোতে বেড়ে চলেছে। অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় দক্ষিণ এশিয়ায় জলবায়ু ঝুঁকি বেশি তীব্র, কারণ এখানে জনসংখ্যা প্রচুর এবং সম্পদ সীমিত।
অ্যামি পোপ মন্তব্য করেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় মানুষকে প্রস্তুত করার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়ন এখনো অপর্যাপ্ত। তার কথায়, মানবিক বিপর্যয়ের ফলে ক্ষয়ক্ষতি শত শত কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে, তবে তার তুলনায় কম বিনিয়োগে দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ানো যায়।
বৈধ অভিবাসনকে এ সমস্যার একটি কার্যকর সমাধান হিসেবে চিহ্নিত করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অভিবাসনের মাধ্যমে মানুষ জীবিকা অর্জনের সুযোগ পেতে পারেন এবং বিদেশের শ্রমবাজারের কর্মী ঘাটতি পূরণেও এতে ভূমিকা রাখা যায়। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, শ্রমিকের চাহিদা বাড়ার সাথে সাথে নিরাপদ ও বৈধ কর্মসংস্থানের পথ নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় অভিবাসনপ্রত্যাশীরা চাকরির ভুয়া প্রস্তাব ও মানব পাচারকারীদের শোষণের শিকার হতে পারেন।
মন্তব্য করুন