
শিশুদের নিরাপত্তা সচেতনতা বৃদ্ধিতে রেডিও উপস্থাপকের পরামর্শ
জনপ্রিয় রেডিও উপস্থাপক মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া সরকার তার ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে শিশুদের ‘গুড টাচ’ ও ‘ব্যাড টাচ’ সম্পর্কে সচেতন করার পরামর্শ দেন। পাশাপাশি শিশুদের সুরক্ষায় অভিভাবকদের আরও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি তার পোস্টে শিশুদের সঙ্গে কোনো ধরনের অস্বাভাবিক স্পর্শ না দেওয়ার বিষয়েও নির্দেশনা দেন।
শুক্রবার দেওয়া ওই পোস্টে তিনি অভিভাবকদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা প্রত্যেকে আপনাদের বাচ্চাদের ‘গুড টাচ’ ও ‘ব্যাড টাচ’ শেখান। পাশাপাশি তিনি সম্প্রতি টঙ্গীতে এক মাদ্রাসাছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে চড় মারার ঘটনার উল্লেখ করেন এবং অভিভাবকদের সতর্ক হওয়ার উপায় বাতলে দেন। তিনি বলেন, সন্তানের সঙ্গে থাকার আগে তাকে সার্বক্ষণিক সিসি ক্যামেরার আওতায় আছে কি না তা দেখা উচিত। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ চাওয়া এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
প্রসঙ্গত, গাজীপুরের টঙ্গীতে সাত বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানের ভাইস প্রিন্সিপালকে চড় মারার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। পরে অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
টঙ্গীর আউচপড়া এলাকার করিউল কোরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসায় বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে এই ঘটনা ঘটে। গ্রেপ্তার শিক্ষকের নাম মুসলেউদ্দিন এবং তিনি ওই মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল।
শিশুটির পরিবার জানায়, ঘটনাটি ঘটেছিল তিন দিন আগে। ঘটনার পর থেকেই শিশুটি মাদ্রাসায় যেতে চাচ্ছিল না। পরিবার থেকে কারণ জানতে চাইলে ভীতি ও হুমকির কারণে সে কিছু বলতে চায়নি। পরে মা-বাবার জিজ্ঞাসাবাদের মুখে শিশুটি পুরো ঘটনা খুলে বলে।
শিশুটির মুখে সব শোনার পর তার অভিভাবক বুধবার দুপুরে সরাসরি মাদ্রাসায় গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে অভিযুক্ত শিক্ষক অশালীনভাবে স্পর্শ করার কথা স্বীকার করছেন। এ সময় ক্ষুব্ধ হয়ে শিশুটির অভিভাবক ওই শিক্ষককে চড় মারেন।
এ ঘটনায় শিশুটির পরিবার অভিযোগ করে যে ভাইস প্রিন্সিপাল মুসলেউদ্দিন তাকে যৌন নিপীড়ন করেছেন। তবে ভিডিও ফুটেজ ও শিশুটির জবানবন্দি অনুযায়ী শিক্ষকের কথোপকথনের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষককে পুলিশ গ্রেপ্তার করলেও মামলাটির আনুষ্ঠানিক নিষ্পত্তি হয়নি। ফলে ঘটনার পূর্ণতা প্রমাণের বিষয়টি এখনো আইনি প্রক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।
মন্তব্য করুন