
জাতীয় যুব দিবসের পূর্বসন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতির বাণীতে দেশের তরুণরাই সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ বলে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। শনিবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়, রাষ্ট্রপতি যুবসমাজকে দেশের প্রাণশক্তি ও উন্নয়নের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তিনি মানসম্মত শিক্ষা, আধুনিক প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও টেকসই কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন।
বাণীতে উল্লিখিত, ভাষা আন্দোলন থেকে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান পর্যন্ত দেশের সব বড় গণতান্ত্রিক অর্জনে তরুণরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। যুবসমাজকে দক্ষ ও উৎপাদনশীল মানবসম্পদে পরিণত করলে স্বনির্ভর, উন্নত ও আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার অগ্রযাত্রা ত্বরান্বিত হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।
এ বছরের প্রতিপাদ্য — ‘দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’ — কে যಥার্থ উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেছেন, দেশের জনসংখ্যার বড় অংশ তরুণ। এই জনমিতিক সুবিধাকে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন ও ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি অর্জনে কাজে লাগাতে হবে। এর জন্য কর্মসংস্থানমুখী শিক্ষা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা ও টেকসই কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বাণীতে জানানো হয়, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যুবসমাজকে উৎপাদনশীল জনশক্তিতে রূপান্তরের লক্ষ্যে সমন্বিত পরিকল্পনার ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সেই উদ্যোগকে আরও সুদৃঢ় করেছিলেন। বর্তমান সরকার যুব উন্নয়ন কার্যক্রমকে শক্তিশালী ও আধুনিক করতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর কৃষি, হস্তশিল্প, কারিগরি শিক্ষা, ফ্রিল্যান্সিং ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে, যা তরুণদের উদ্যোক্তা ও স্বনির্ভর নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হয়েছে।
সুস্থ ও সুন্দর সমাজ গঠনে তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেছেন, মাদকাসক্তি প্রতিরোধ, পরিবেশ সুরক্ষা, নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা বন্ধ এবং সামাজিক অবক্ষয় রোধে যুবসমাজকে সামাজিক আন্দোলন ও স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ডে এগিয়ে আসতে হবে। যুবসমাজের সার্বিক উন্নয়ন ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে সরকার ছাড়াও বেসরকারি খাত, সামাজিক সংগঠন ও বিত্তবান ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। রাষ্ট্রপতি যুবসমাজের মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থান ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করাকে সম্মিলিত অঙ্গীকার হিসেবে গ্রহণ করার ওপর জোর দিয়েছেন।
মন্তব্য করুন