
বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার সারা দেশে এলপিজি সিলিন্ডারের দোকান বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড। সংগঠনের পক্ষ থেকে সাত দফা দাবি আদায়ের জন্য এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। দাবি পূরণ না হলে পরবর্তীতে অনির্দিষ্টকালের জন্য গ্যাস বিক্রি বন্ধ রাখার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
গত সোমবার (১২ অক্টোবর) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি মো. সেলিম খান এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, পাঁচ বছর আগে পরিবেশকদের সিলিন্ডারপ্রতি কমিশন ৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। জ্বালানি তেল, পরিবহন, লোড-আনলোড, গুদামভাড়া ও লাইসেন্স ফি বহুগুণ বেড়ে যাওয়ায় বর্তমানে পরিবেশকদের সিলিন্ডারপ্রতি ১১০ টাকা খরচ হয়। তাই কমিশন ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫০ টাকা বা বিক্রয়মূল্যের ৭ শতাংশ নির্ধারণের দাবি জানান তিনি।
সংগঠনের দাবি, সিলিন্ডারপ্রতি কমিশন বৃদ্ধি, নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং প্রশাসনিক হয়রানি ও জরিমানা বন্ধসহ সাত দফা দাবিতে এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। সাত দফার মধ্যে রয়েছে:
* সিলিন্ডারপ্রতি কমিশন ১৫০ টাকা বা বিক্রয়মূল্যের ৭ শতাংশ নির্ধারণ করা।
* বিএইআরসির ঘোষণা ব্যতীত কোম্পানির ইচ্ছামতো মাসে একাধিকবার দাম পরিবর্তন বন্ধ করা এবং কোম্পানির চালানে প্রকৃত মূল্য লেখা।
* দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস সরবরাহে অক্ষম কোম্পানির খালি সিলিন্ডারে সরকারি উদ্যোগে বা অন্য কোম্পানির মাধ্যমে গ্যাস ভরার ব্যবস্থা করা।
* যেসব কোম্পানি পরিবেশকের গুদামে সিলিন্ডার পৌঁছে দেয় না, তাদের ন্যায্য পরিবহনভাড়া দেওয়ার ব্যবস্থা করা।
* সব কাগজপত্র ঠিক থাকার পরও কেবল রেলিংয়ের অজুহাতে সিলিন্ডারবাহী ট্রাক বা পিকআপের বিরুদ্ধে পুলিশি মামলা না দেওয়ার ব্যবস্থা করা।
* ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে অনৈতিক ও অযৌক্তিক জরিমানা আরোপ বন্ধ করা।
সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বাজারে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশি দামে এলপিজি বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত ৪ অক্টোবর বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিএইআরসি) ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করে। তবে ভোক্তাদের অভিযোগ, খুচরা বাজারে এই সিলিন্ডার কিনতে নির্ধারিত দামের চেয়ে আরও ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা বেশি গুনতে হচ্ছে। বিভিন্ন জেলার প্রশাসকরাও জ্বালানি বিভাগে অতিরিক্ত দামে গ্যাস বিক্রির তথ্য জানিয়েছেন।
পরিবেশকদের দাবি, কমিশন না বাড়ালে নির্ধারিত দামে গ্যাস বিক্রি করা তাদের পক্ষে অসম্ভব। তবে আমদানিকারকদের সংগঠন লোয়াব বলছে, দেশে এলপিজির পর্যাপ্ত মজুত ও সরবরাহ রয়েছে। নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি রাখলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ৮ জানুয়ারিতেও জরিমানা ও অভিযানের প্রতিবাদে ধর্মঘট ডেকেছিলেন ব্যবসায়ীরা, যা বিএইআরসির আশ্বাসে ওই দিন বিকেলেই প্রত্যাহার করা হয়েছিল।
বাংলাদেশ জার্নাল/ওএফ
মন্তব্য করুন