
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানকে ‘চব্বিশ আমাদের’ হিসেবে দাবি করলে নতুন রাজনৈতিক দলগুলো নবীন থেকে বড় হতে পারবে না। ঢাকা অফিসার্স ক্লাবে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে শনিবার সন্ধ্যায় একটি আলোচনা সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।
মন্ত্রী বলেন, যারা সম্প্রতি রাজনীতিতে এসেছেন এবং চব্বিশের মালিকানা দাবি করছেন, তাদের রাজনীতি নবীনই থেকে যাবে। তার কথায়, ‘চব্বিশ আমাদের আমাদের’ করে বললে চব্বিশ কারও থাকবে না।
জুলাইয়ের শিক্ষার্থী আন্দোলন ও পরবর্তী গণঅভ্যুত্থানের পটভূমি তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এই আন্দোলন একদিনে আসেনি। ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত অনেক মায়ের কোল খালি হয়েছে, অনেক স্ত্রী স্বামী হারিয়েছেন। ইলিয়াস এখনও ফিরে আসেননি। গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবার এই আন্দোলনের ত্যাগ ও রক্তদান সম্পর্কে জানেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাইতে সরকারি চাকরির কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন প্ল্যাটফর্মের নেতৃত্বে এই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। অভ্যুত্থানের সামনের সারির নেতারা পরে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) গঠন করেন। এই দল জামায়াতে ইসলামীর সাথে জোট করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ছয় আসনে জয়ী হয়। অন্তর্বর্তী সরকারে ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে নাহিদ ইসলাম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া দায়িত্ব পেয়েছিলেন; নাহিদ ইসলাম দল গঠনের জন্য পদত্যাগ করেন, আর আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে পদত্যাগ করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরো দাবি করেন, অন্তর্বর্তী সরকারে দায়িত্ব পেয়었던 ব্যক্তিদের মধ্যে ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার একটি চেষ্টা ছিল। তিনি বলেন, নির্বাচন দেরি করে অন্তত পাঁচ বছর থাকার উদ্দেশ্য ছিল। তবে এটি তার দাবি, স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা হয়নি।
তিনি সুপ্রিম কোর্ট বিচারಕರ অবসর বয়স ৬৫ থেকে ৬৭ বছর বাড়ানোর প্রসঙ্গও টেনে বলেন, চারদলীয় জোট সরকারের সময় এই সিদ্ধান্ত最終িকরrupে গ্রহণ হয়নি, তবে পরবর্তী সরকারের সময় সুবিধা বহাল ছিল। তিনি পরামর্শ দেন, যদি ৬৫ বছর করে আনার প্রস্তাব করা হয়, তবে সে বিষয়টি আंतरিকভাবে বিবেচনা করা যেতে পারে।
তদুপরি, দাগী অপরাধীরা উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়ে যাওয়ার পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি মন্তব্য করেন।
আলোচনা সভাটি সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও অফিসার্স ক্লাব সভাপতি নাসিমুল গনি। অন্য বক্তাদের মধ্যে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখ্য সচিব ও অফিসার্স ক্লাব সাধারণ সম্পাদক এ বি এম আবদুস সাত্তার এবং সাবেক সচিব মো. মশিউর রহমান।
মন্তব্য করুন