
চট্টগ্রামের একজন রেস্তোরাঁ মালিক রহমান মিজান তার ফেসবুক পেজ ‘লিভিং রাও উইথ মিজান’ থেকে ফুডপান্ডাকে ডিজিটাল ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মতো শোষক আখ্যা দিয়েছেন। সম্প্রতি প্রকাশিত তার পোস্টে তিনি রেস্তোরাঁ মালিকদের জন্য প্ল্যাটফর্ম ফি, কমিশন এবং অন্যান্য চার্জের বিস্তারিত হিসাব প্রকাশ করেছেন, যা তার মতে রেস্তোরাঁ মালিকদের আয়ের একটি বড় অংশ কেড়ে নিচ্ছে।
মিজান বলেছেন যে তিনি তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং চট্টগ্রামের রেস্তোরাঁ মালিকদের একটি প্রাইভেট গ্রুপ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই পোস্টটি শেয়ার করেছেন। তার বিশ্লেষণের মতে, ফুডপান্ডা ফুড ডেলিভারি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে তার লাভের অর্থ বিদেশে পাচার করছে। তিনি উল্লেখ করেছেন যে প্ল্যাটফর্মটি যদি শুধুমাত্র ঘোষিত কমিশন সীমার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকত, তাহলে তারা ভোক্তাদের কাছে খাবার পৌঁছে দিতে তাদের সাথে ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারতেন। তবে বর্তমানে ফুডপান্ডা লোভী পান্ডাতে পরিণত হয়েছে, যা রেস্তোরাঁ মালিকদের পিঠ দেয়ালে ঠেকিয়ে দিয়েছে।
পোস্টটিতে রেস্তোরাঁ মালিকদের জন্য ফুডপান্ডার চার্জের একটি বিস্তারিত তালিকা রয়েছে:
* **এভয়েডেবল ওয়েটিং টাইম (এডব্লিউটি):** প্রথম ইনস্ট্যান্টে ৩৮ টাকা, প্রথম ৮ মিনিটের জন্য ২৩ টাকা এবং পরবর্তী প্রতি মিনিটের জন্য ৫ টাকা। মাত্র ১ মিনিট দেরিতে একটি ৩০০ টাকার অর্ডারে (৩৮ + ২৩) = ৬১ টাকা কাটা হয়। যদি প্রতিদিন এমন ৫টি অর্ডারে ক্ষতি হয়, তবে মাস শেষে ৯,০০০ টাকা চলে যায়।
* **অর্ডার ক্যানসেলেশন ফি:** প্রতিবার অর্ডার বাতিল হলে ৭০ টাকা কাটা হয়। দিনে গড়ে ৫টি ক্যানসেলেশনের সাথে মাসে ১৫০টি ক্যানসেলেশনে খেসারত দিতে হয় ১১,২৫০ টাকা। এডব্লিউটি এবং ক্যানসেলেশন ফি মিলিয়ে মোট বিক্রয়ের কমপক্ষে ৫% হাওয়া হয়ে যায়।
* **কমিশন এবং অন্যান্য চার্জ:** ন্যূনতম কমিশন ২২%, ভ্যাট অন সার্ভিস ৩.৫%, অনলাইন পেমেন্ট ফি ১.৫%। মোট কাটতি প্রতি অর্ডারে সর্বনিম্ন ২৭%।
* **অফার বা ডিসকাউন্টের উপর কমিশন:** রেস্তোরাঁ নিজে দেওয়া ডিসকাউন্ট থেকেও ফুডপান্ডা ২৭% কমিশন কেটে নিচ্ছে, যা অত্যন্ত হাস্যকর বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
* **সিপিসি এবং বাধ্যতামূলক ডিসকাউন্ট:** বিজ্ঞাপনের বাজেট না দিলে ব্র্যান্ডের দৃশ্যমানতা থাকে না। এমনকি মোট বিক্রয়ের ৫-৭%-এর কম বাজেট দিলে তারা তা বাতিল করে দেয়। ডিসকাউন্টের ক্ষেত্রে, ১৫%-এর নিচে ডিসকাউন্ট দিলে সেল কনভার্ট হয় না, এবং প্যান্ডা-প্রো গ্রাহকদের জন্য ২০%-এর নিচে ডিসকাউন্ট দেওয়া যায় না। অর্থাৎ গড়ে ১৭.৫% ডিসকাউন্ট দিতে হয়।
মিজান এই হিসাবের সাথে আরও উল্লেখ করেছেন যে কমিশন এবং ডিসকাউন্ট মিলিয়ে মোট কাটতি ৪৯.৫%, এডব্লিউটি এবং ক্যানসেলেশন ফি থেকে ৫%, সর্বমোট কাটতি কমপক্ষে ৫৪.৫%! তিনি প্রশ্ন করেছেন যে রেস্তোরাঁ মালিকরা কি তাদের জমি রেখে ফুডপান্ডার জন্য ‘নীল চাষ’ করছেন।
পোস্টটিতে আরও বলা হয়েছে যে গ্রাহকদের কাছ থেকে প্ল্যাটফর্ম ফি হিসাবে ২৩ থেকে ৫৩ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়, রাইডারদের নামে টিপস এবং প্রিমিয়াম ডেলিভারির নামে অতিরিক্ত টাকা কাটা হয়, কিন্তু এই বিশাল অঙ্কের টাকা কোথায় যায় তা স্পষ্ট নয়। যদি কোনো রেস্তোরাঁ বা রাইডার এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করে, তাহলে রেস্তোরাঁর ডেলিভারি এরিয়া কমিয়ে দেওয়া হয় এবং রাইডারদের ব্যাজ কমিয়ে শাস্তি দেওয়া হয়।
মিজান জোর দিয়েছেন যে ফুডপান্ডা শুধুমাত্র একচেটিয়া ক্ষমতার জোরে যা ইচ্ছা তাই চাপিয়ে দিচ্ছে। এখনই সময় ঘুরে দাঁড়ানোর এবং বিকল্প প্ল্যাটফর্মগুলিকে শক্তিশালী করার। এমন কিছু নীতিমালা তৈরি করা দরকার যাতে ভবিষ্যতে অন্য কোনো প্ল্যাটফর্ম এমন স্বেচ্ছাচারিতা করতে না পারে। ফুডপান্ডার এই ডিজিটাল শোষণের বিরুদ্ধে সব রেস্তোরাঁ মালিকদের এক হওয়া এখন সময়ের দাবি।
ফুডপান্ডা এই অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
মন্তব্য করুন