
বরগুনায় শুরু হয়েছে বরগুনা সায়েন্স সোসাইটি (বিএসএস) আয়োজিত ষষ্ঠ মহাকাশ ক্যাম্প ২০২৬। শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা গড়ে তোলা, মহাকাশবিজ্ঞান ও আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে আগ্রহ সৃষ্টি এবং উদ্ভাবনী চিন্তার বিকাশ লক্ষ্যে ক্যাম্পটির আয়োজন করা হয়েছে।
আয়োজনের শুভ উদ্বোধন করেন জাতীয় সংসদের মাননীয় চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বরগুনায় শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানচর্চার পরিবেশ সমৃদ্ধ করতে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তিনি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়িয়ে তোলা এবং তাদের সৃজনশীলতা বিকাশের সুযোগ তৈরি করার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে বরগুনার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক), স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এবারের ক্যাম্পে শিক্ষার্থীদের জন্য টেলিস্কোপের মাধ্যমে মহাকাশ পর্যবেক্ষণ, রোবোটিক রোবোস্কার, রোবট শো, ফোরডি বা 4D মুভি এবং মিউজুবাসসহ বিভিন্ন বিজ্ঞানভিত্তিক প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা হয়েছে। যুক্তিবোধ, জ্ঞান ও সৃজনশীলতা বিকাশের লক্ষ্যে বিজ্ঞানবিষয়ক বিতর্ক প্রতিযোগিতা ও বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ক্যাম্পে বিএসএসের নিজস্ব উদ্ভাবন ‘শূন্য (SHUNNO)’-সহ বিভিন্ন বিজ্ঞানভিত্তিক উদ্ভাবন প্রদর্শন করা হচ্ছে। পরিবেশবান্ধব উপকরণ ও উদ্ভাবনী সমাধানের ধারণা উপস্থাপনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের স্থানীয় সমস্যা, পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ ও দৈনন্দিন প্রয়োজনকেন্দ্রিক বিজ্ঞান-নির্ভর সমাধান গড়ে তোলার উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।
দেশের বিভিন্ন প্রান্তের প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন ক্যাম্পে অংশগ্রহণ করছে। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে রয়েছে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর, উদ্ভাবনী বিজ্ঞান ক্লাব ভবিগঞ্জ, রাজশাহী ইউনিভার্সিটি সায়েন্স সোসাইটি, যশোরের জেসিবি সায়েন্স ক্লাব এবং ঢাকার রোবোডেমি।
আয়োজকরা জানিয়েছে, বিএসএস ষষ্ঠবারের মতো এই মহাকাশ ক্যাম্প করছে। প্রতি বছর আয়োজনটিতে প্রায় চার থেকে পাঁচ হাজার শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। মহাকাশ সম্পর্কে জানা, আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত হওয়া এবং হাতে-কলমে বিজ্ঞান শেখার সুযোগ পাওয়ার আগ্রহে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পের অপেক্ষা করেন।
বিএসএস সভাপতি আকিল আহমেদের নেতৃত্বে আয়োজিত এ ক্যাম্পের মূল লক্ষ্য হলো ভবিষ্যতের বিজ্ঞানী, গবেষক ও উদ্ভাবক তৈরির প্রতি শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করা। আয়োজকরা আশা করছেন, সরকারি প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিজ্ঞানভিত্তিক সংগঠন, শিক্ষক, অভিভাবক ও তরুণদের সম্মিলিত সহযোগিতায় বরগুনায় বিজ্ঞানচর্চার পরিবেশ আরও বিস্তৃত হবে। এতে উপকূলীয় অঞ্চলের শিক্ষার্থীরাও বিজ্ঞান, গবেষণা ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে নিজস্ব প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পাবে বলে তারা জানিয়েছে।
মন্তব্য করুন