
মৃত্যুর পরের ব্যবস্থাপনা নিয়ে জাপান, সিঙ্গাপুর, জার্মানি ও হংকংয়ের মতো দেশগুলোতে রয়েছে ব্যতিক্রমী আইন ও সামাজিক রীতি। তবে এখনও পর্যন্ত কোনো দেশে নাগরিকদের নিজের মৃত্যুর জন্য আইনগত বাধ্যতামূলকভাবে প্রস্তুতি নেওয়ার কোনো নির্দিষ্ট আইন রয়েছে বলে প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
জাপানে ‘শুকাতসু’ (Shūkatsu) নামে মৃত্যুর পরের জীবন গুছিয়ে রাখার একটি সামাজিক প্রবণতা রয়েছে। এর মধ্যে শেষকৃত্যের পরিকল্পনা, সম্পদের হিসাব, উত্তরাধিকারসংক্রান্ত তথ্য এবং পরিবারের জন্য ব্যক্তিগত বার্তা রেখে যাওয়া অন্তর্ভুক্ত। স্থানীয় প্রকাশনা Nippon.com-এর ২০২৩ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশটিতে এ ধরনের নোট সম্পর্কে সচেতনতা থাকলেও তুলনামূল্যে কম মানুষ তা লিখে রাখেন। জাপানে প্রত্যেক নাগরিকের জন্য এন্ডিং নোট লেখা বাধ্যতামূলক নয়; এটি মূলত ব্যক্তিগত প্রস্তুতির অংশ।
সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল এনভায়রনমেন্ট এজেন্সি (NEA)-এর তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৮ সালের ১ নভেম্বর থেকে সাধারণ নিয়মে কবরের মেয়াদ ১৫ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। মেয়াদ শেষ হলে কবর খনন করে দেহাবশেষ তুলে নেয়া হয় এবং ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী দেহাবশেষ দাহ করা অথবা ছোট জায়গায় পুনরায় সমাহিত করার ব্যবস্থা করা হয়। দেশটির জমির সীমাবদ্ধতা এই ব্যবস্থার পেছনের মূল কারণ। সিঙ্গাপুরে কাউকে সমাহিত করার অর্থ এই নয় যে তাঁর কবর অনির্দিষ্টকাল একই জায়গায় থাকবে।
জার্মানিতে কবর ব্যবস্থাপনার নিয়ম স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও কবরস্থানের নীতির ওপর নির্ভর করে। সরকারি প্রশাসনিক পোর্টালে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শর্তে কোনো ব্যক্তি কবর ব্যবহারের অধিকার পেতে পারেন এবং স্থানীয় বিধি অনুমতি দিলে মৃত্যুর আগেও কবরের জায়গার ব্যবহারের অধিকার নেওয়া সম্ভব। তবে নির্দিষ্ট কোনো কবরের জায়গা পাওয়ার সর্বজনীন আইনি অধিকার নেই। কবরের জায়গার অধিকার পাওয়া মানে সেটির মালিক হয়ে যাওয়া নয়; সাধারণত নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কবর ব্যবহারের অধিকার দেওয়া হয়।
হংকংয়ের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সরকারি কবরস্থানে সমাহিত দেহাবশেষ সাধারণত ছয় বছর পর তুলে নেওয়ার নিয়ম রয়েছে। দাহের পর দেহাবশেষ সংরক্ষণের জন্য পরিবারের সদস্যরা নির্ধারিত স্থানে অস্থি সংরক্ষণ করতে পারেন। সরকারি কোলাম্বারিয়ামে অস্থি রাখার স্থান বরাদ্দের জন্য আবেদন ও নির্দিষ্ট শর্ত রয়েছে। তবে হংকংয়ের সব কবরস্থান বা সব ধরনের সমাধিস্থলে একই নিয়ম প্রযোজ্য নয়; সরকারি ও বেসরকারি কবরস্থানের ব্যবস্থাপনায় পার্থক্য থাকতে পারে।
বিভিন্ন দেশের এসব উদাহরণ থেকে বোঝা যায়, নিজের মৃত্যুর প্রস্তুতি নেওয়ার অর্থ সব সময় কবরের জায়গা বুক করা নয়। এর মধ্যে থাকতে পারে মৃত্যুর পর শেষকৃত্য কীভাবে সম্পন্ন হবে সে বিষয়ে নিজের ইচ্ছা জানিয়ে রাখা, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও সম্পদের তথ্য পরিবারের কাছে গুছিয়ে রাখা, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে উইল তৈরি করা, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে চিকিৎসা, শেষকৃত্য ও সমাধিস্থল নিয়ে আলোচনা করা এবং নিজের অনলাইন অ্যাকাউন্ট ও ডিজিটাল তথ্যের ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে নির্দেশনা রেখে যাওয়া।
এ ধরনের পরিকল্পনা মৃত্যুর পর পরিবারের সদস্যদের বিভ্রান্তি ও অপ্রয়োজনীয় চাপ কমাতে পারে। তবে সব দেশের আইন, ধর্মীয় রীতি ও সামাজিক বাস্তবতা এক নয়; তাই কোনো একটি দেশের অভিজ্ঞতাকে সবার জন্য প্রযোজ্য নিয়ম হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।
মন্তব্য করুন