
জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, সরকার কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা থাকা আওয়ামী লীগ ও ভারতের সঙ্গে ‘সমঝোতা’ করে দেশ চালাচ্ছে। এটি তাঁর একটি অভিযোগ, যা তিনি রাজধানীর কারওয়ান বাজারে শুক্রবার বিকালে তাঁর দলের গণসংযোগ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জানান।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্য প্রসঙ্গে এটি অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত এবং উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপানোর মত। নির্বাচনের আগে সরকার ও বিএনপি-আওয়ামী লীগের সমঝোতা থেকে নির্বাচনে অংশ নেওয়া হয়েছিল; এখন আওয়ামী লীগ ও ভারতের সাথে এক ধরনের সমঝোতা করে দেশ চালাচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
গঙ্গা চুক্তি নবায়ন নিয়েও তাঁর দল একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে তিনি বলেন, তারা এ সংক্রান্তে স্পষ্ট কিছু বলতে পারছে না।
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে নাহিদ বলেন, নিজেদের দিকে তাকান, দ্রুত বিচার নিশ্চিত করুন এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করুন। আমরা আগেই বলেছি, শুধু ব্যক্তি বা সরকারের পরিবর্তন হলেই হবে না, পুরো বন্দোবস্তের পরিবর্তন হতে হবে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ‘অবনতি’, জ্বালানি সংকটসহ সার্বিক ব্যর্থতার দায়ে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রীকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে দাবি তুলেছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গত সাত মাসে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে বলে তিনি বলেন। তিনি আইনশৃঙ্খলা ঠিক না রেখে সংবিধান কাটাছেঁড়া করতে ব্যস্ত বলে তিনি দেখান; ফলে তার এই দায়িত্বে থাকার নৈতিক অধিকার নেই বলে তিনি দাবি করেন। জ্বালানি মন্ত্রীও কোনো উদ্যোগ নিতে পারেননি, তাই মন্ত্রিপরিষদ পুনর্গঠন করা উচিত বলে তিনি বলেন।
দুই মন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি জানিয়ে আরও তিনটি দাবি তুলেছেন তাঁর। এর মধ্যে ‘একদলীয়’ সংবিধান সংশোধন কমিটি অবিলম্বে বিলুপ্ত করে গণভোটে রায়ের ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করা; সাইবার আইনের সংশোধনী প্রস্তাব বাতিল করতে হবে এবং গুম প্রতিরোধ ও মানবাধিকার কমিশন আইনের মত ‘কর্তৃত্ববাদী আইনগুলো’ বাতিল করা; ২০২৪ সালের ৫ অগাস্টের পর থেকে জুলাই গণহত্যা ও খুনের বিচার দ্রুত শেষ করতে হবে।
নাহিদ বলেন, এই দাবিগুলোর মধ্যে আগামী ৩০ অক্টোবর ঢাকার শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে দুপুর ৩টায় গণবিক্ষোভ পালিত হবে।
সদ্য সমাপ্ত দুর্গাপূজা নিয়ে বিরোধী দলীয় এই উপনেতা বলেন, বাংলাদেশে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গাপূজা শেষ হয়েছে। এ জন্য হিন্দু-মুসলিম সকল শান্তিপ্রিয় মানুষকে ধন্যবাদ জানাচ্ছেন; তবে এতে সরকারের বিন্দুমাত্র ক্রেডিট নেই বলে তিনি বলেন।
মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র পরিবারের কেনাকাটার ক্ষমতা অর্ধেকেরও নিচে নেমে গেছে দাবি করেন। বাজেট অধিবেশনে সরকারদলীয় এমপিরা সংসদে দাঁড়িয়ে বারবার মিথ্যা ও প্রতারণামূলক কথা বলেছে, দাম বাড়েনি এবং বাড়বে না; অথচ জ্বালানি তেলের দাম তিন দফা বাড়ানো হয়েছে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির দোহাই দিয়ে। কিন্তু সরকারের কোনো সঠিক পরিকল্পনা নেই বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি স্বীকার করান, এই দাবিগুলোর সঙ্গে জনগণের অধিকার আদায় হওয়ার অগ্রযাত্রা নেই বলে দাবি করেন; এমনকি গণবিরোধী ও অগণতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক প্রতিরোধ ছাড়া জনগণের অধিকার আদায় হবে না।
মন্তব্য করুন