
বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফের ওপর গুলি চালানোর ঘটনায় মুম্বাই পুলিশের দাবি, প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল বলিউড তারকা সালমান খানকে হত্যা করা। তবে সালমানের বাড়িতে ব্যাপক নিরাপত্তা দেখে হামলাকারীরা পরিকল্পনা পরিবর্তন করে টাইগারকে লক্ষ্য করে নেয়।
মুম্বাই পুলিশ ও দিল্লি পুলিসের বিশেষ সেল একসাথে গ্রেপ্তার করেছে মোট সাতজনকে। পুলিশের দাবি, লরেন্স বিষ্ণোইয়ের গ্যাংয়ের নির্দেশে এই হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। গ্রেপ্তার অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদে ফেনা ওঠা তথ্য অনুযায়ী, প্রথমে সালমানকে নিশানা করার পরিকল্পনা ছিল, কিন্তু তার বাড়ির বাইরের জটিল নিরাপত্তার কারণে টাইগারকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়।
গ্রেপ্তার অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছে হরিয়ানার সোনিপত জেলার রেহান রহিসউদ্দীন (১৮), ফুল সিং (১৮) এবং বিহারের বেগুসরাইয়ের হৃতিক মাহতো (২২)। আরও গ্রেপ্তার হয় হরিয়ানার সোনিপত থেকে সমীর নামে একজন। দিল্লি পুলিসের বিশেষ সেল গ্রেপ্তার করে আরও চারজনকে—কুনাল, সুমিত, রাধা ও ববিতা। তাদের বয়স ১৯ থেকে ২৩ বছরের মধ্যে। পুলিশ দাবি করে, এই চারজন লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংসহ সংযুক্ত একটি নেটওয়ার্কের অংশ ছিলেন এবং টাইগারের গাড়িতে গুলি চালানোর অস্ত্র সরবরাহ করেছিলেন।
পুলিশের তদন্তে জানা যায়, হামলাকারীরা মুম্বাইতে অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলে করে ২০ দিন ধরে শহর ঘোরা দেন। তারা আন্ধ পশ্চিমের চার-পাঁচটি হোটেল বদেলে নজর এড়াতে চাইত। সালমানের বাড়িকে রেকি করে বুঝতে পারেন যে তাকে নিয়ে আক্রমণ করা সম্ভব নয়। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যবেক্ষণ করে টাইগার শ্রফের নিরাপত্তা সম্পর্কে তথ্য পান হামলাকারীরা।
পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার অভিযুক্তরা অস্ত্র পেয়েছেন এবং রোববার টাইগারের গাড়িকে লক্ষ্য করে সাতটি গুলি চালান। গুলি চালানোর পর একটি বন্দুকে ত্রুটি দেখা দেয়। পরে তিনজন মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যান এবং জয়পুরগড় ট্রেনে ওঠার আগে মোটরসাইকেলটি ফেলে রাখেন। এই ঘটনায় গুলি চালানো হয় দেশি ও বিদেশি অস্ত্র ব্যবহার করে বলে পুলিশের অনুমান। তবে বিদেশি অস্ত্রের নির্দিষ্ট মডেল সম্পর্কে বিস্তারিত তদন্তকারীদের ধারণা নেই।
এ ঘটনায় আহত হয়েছে টাইগারের গাড়িচালক এবং গাড়ির পাশে থাকা একজন অটোরিকশাচালক। পুলিশের দাবি, হামলার জন্য অস্ত্রধারীদের ৫০ হাজার রুপি অগ্রিম দেওয়া হয়েছিল এবং ঘটনার পর বাকি এক লাখ রুপি পরিশোধ এবং বিদেশে চাকরির প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়।
এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে লরেন্স বিষ্ণোইয়ের গ্যাংের। এই গ্যাংের সঙ্গে সালমান খানের দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। ১৯৯৮ সালে রাজস্থানের যোধপুরে সালমান খান দুটি কৃষ্ণসার হরিণ হত্যা করেন। এই হরিণগুলো বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের জন্য পবিত্র। এই ঘটনায় সালমানের বিরুদ্ধে মামলা করে বিষ্ণোই সম্প্রদায়। ২০১৮ সালে সালমানের বিরুদ্ধে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড প্রায়োগ হয়, পরে জামিনে মুক্তি পান তিনি।
একটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে যাওয়া একটি অডিওতে একজন ব্যক্তি আত্মপ্রকাশ করেন অনিল পণ্ডিত নামে এবং বলেন, সালমান খানের সঙ্গে যারা কাজ করবে বা তাকে সমর্থন করবে, তাদের হত্যা করা হবে। এই অডিওতে বলা হয়, লরেন্স বিষ্ণোইয়ের ছোট ভাইয়ের মতো এই অনিল পণ্ডিত। তিনি আরও বলেছেন, সালমান যদি ক্ষমা না চায় তাকে শান্তিতে থাকতে দেওয়া হবে না এবং সালমানের সঙ্গে যোগাযোগ রাখে যাদের পরিবারকে ধ্বংস করা হবে।
পুলিশের অনুমান, টাইগার শ্রফ ও সালমান খান একসঙ্গে কোনো সিনেমায় অভিনয় করেননি, তবু তাদের মধ্যে ভালো সম্পর্ক রয়েছে। টাইগারের বাবা জ্যাকি শ্রফ একাধিক চলচ্চিত্রে সালমান খানের সঙ্গে কাজ করেছেন।
মন্তব্য করুন