
রূপপুরে অবস্থিত বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের অগ্রদর্শী পদক্ষেপের একটি পর্যায়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এই পর্যায়ে প্রথম ইউনিটের বি-২ ধাপের ফিজিক্স টেস্টসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনা সফলভাবে শেষ হয়েছে। কেন্দ্রপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রকল্পের নেতৃত্বে বলা হয়েছে, নিরীক্ষা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনের প্রক্রিয়া চলছে; চূড়ান্ত অনুমোদন নিতে হলে আরও প্রক্রিয়া লাগতে পারে।
প্রকল্পের প্রধান দায়িত্বকর্তার মতে, নির্ভরতা নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনপত্র অর্জিত হলে বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত প্রস্তুতিমূলক ধাপ শুরু হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী চলতি বছরের শেষ নাগাদ জাতীয় গ্রিডে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হতে পারে। তবে এই সম্ভাবনা পুরোপুরি নির্ভরশীল; প্রথমে সীমিত পরিসরে প্রয়োগ শুরু হতে পারে এবং পরীক্ষাগুলোর সফলতার ওপর ভিত্তি করে প্রবৃদ্ধি হবে।
নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জাহেদুল হাসান শনিবার বলেন, এই পরীক্ষার প্রতিবেদন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। সংস্থাটির চূড়ান্ত অনুমোদন মিললেই বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত প্রস্তুতিমূলক ধাপ সি স্টেজ অথবা পাওয়ার স্টার্টআপ শুরু হবে।
সম্প্রতি রুশ প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকের পর প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ ধাপের অগ্রগতি সম্পর্কে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে বলেও প্রকৌশলীরা জানান। তাঁদের প্রত্যাশা, পাওয়ার স্টার্টআপের পর কেন্দ্রটির উৎপাদনক্ষমতা ২৫ থেকে ৩০ শতাংশে পৌঁছালেই প্রথম ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা সম্ভব।
সেই হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষ নাগাদ রূপপুরের প্রথম ইউনিট থেকে অন্তত ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে পারে। বাণিজ্যিক উৎপাদনে আগে আন্তর্জাতিক পারমাণবিক মানদণ্ড অনুসার, প্রতিটি ধাপে নির্ভুল পরীক্ষা ও বায়েরা থেকে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন বাধ্যতামূলক। কেন্দ্রটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে গেলে বিশ্বে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশগুলোর তালিকায় আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হবে বাংলাদেশ। এটি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক তৈরি করতে পারে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের মূল মেয়াদ ছিল ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত, যা দুই দফায় বৃদ্ধি করে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। রাশিয়ার সঙ্গে মূল চুক্তি অনুযায়ী, সময় বা বৃদ্ধি পাওয়া গেলেও ইউরো বা ডলারে নির্ধারিত ঠিকাদারি ব্যয় বৃদ্ধি পায়নি। তবে স্থানীয় বাজারে ডলারের বিনিময় হার বেড়াওয়ার কারণে প্রকল্প ব্যয় প্রায় ২৬ হাজার কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা।
মন্তব্য করুন