
ফ্রান্সে শনিবার দেশব্যাপী বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে ১ হাজারেরও বেশি বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বার্তাসংস্থা এএফপি রোববার এই তথ্য জানিয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শনিবারের সহিংসতায় ৫৩ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দেশজুড়ে প্রায় ৭০ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল।
প্রথম দফার বিক্ষোভে সাড়ে পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষ রাস্তায় নেমে আসার পর ফ্রান্সে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা দেয়। দ্বিতীয় দফার বিক্ষোভে প্রায় ৪ লাখ ১০ হাজার মানুষ অংশ নিয়েছে বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় দফার বিক্ষোভে ৭৫টি অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে এবং ২৪টি দোকানে লুটপাট হয়েছে। তবে বিক্ষোভকারীদের কতজন আহত হয়েছেন, তা মন্ত্রণালয় জানায়নি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানী প্যারিস ছাড়াও মার্সেই ও বোর্দোতে কিছু সহিংস সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। তবে গত সপ্তাহের তুলনায় সহিংসতার মাত্রা কম ছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্যারিসে একটি শান্তিপূর্ণ মিছিলের পর কয়েক হাজার বিক্ষোভকারী পুলিশের মুখোমুখি হন। পুলিশ তাদের ঠেকাতে টিয়ার গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। মিছিলের শেষ গন্তব্য পোর্ত দ্য ভাঁসেনে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
সিএনএনের ফরাসি সহযোগী বিএফএমটিভি জানায়, ফ্রান্সের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মার্সেইয়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলতে থাকে। শহরের বিভিন্ন অংশে লুটপাটের খবরও পাওয়া গেছে। এর মধ্যে একটি গহনার দোকানের জানালা ভাঙা হয় এবং একটি সুপারমার্কেটে লুটপাট হয়।
ফ্রান্সের আটলান্টিক উপকূলীয় শহর বোর্দোর বিখ্যাত প্লাস দ্য লা বুর্সে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে টিয়ার গ্যাস ব্যবহারের ছবি দেখা গেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, টিয়ার গ্যাসের ধোঁয়া চত্বরজুড়ে ছড়িয়ে পড়ার সময় মুখোশধারী কয়েকজন বিক্ষোভকারী পুলিশের দিকে বিভিন্ন বস্তু ছুড়ছেন।
এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পরবর্তী সময়ে জানাবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিক্ষোভের বিস্তারিত পরিস্থিতি ও এর কারণ সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যাবে।
মন্তব্য করুন