
দেহেরগতি ইউনিয়নের নতুন হাট এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে এক প্রবীণ নারীর পচাগলা মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যাকে একজন শিল্পপতির মা হিসেবে জানা যাচ্ছে। বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় ঘটনাটি ঘটে গত রোববার দুপুরে।
মৃত তাহমিনা বেগমের স্বামী কদম আলী হাওলাদার প্রায় ২০ বছর আগে মারা যান। তারপর থেকে চার সন্তানকে মানুষ করার জন্য কঠোর পরিশ্রম করেন তিনি। স্বামীর ঘর বিক্রি করে সৌদি আরবে পাড়ি জমান এবং সেখান থেকে উপার্জিত অর্থ দিয়ে সন্তানদের লালন-পালন ও প্রতিষ্ঠিত করেন। তার বড় ছেলে সুমন হাওলাদার একজন শিল্পপতি, যিনি বৈদ্যুতিক বোর্ড তৈরির কারখানার মালিক এবং রাজধানীর উত্তরায় নিজের ছ৬তলা ভবনে পরিবার নিয়ে বসবাস করেন। ছোট ছেলে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন এবং দুই মেয়েকেও প্রতিষ্ঠিত পাত্রের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়রা জানান, গত রোববার সকালে ঘর থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াতে থাকায় বাড়িওয়ালার নজরে আসে। পরে ঘরের ভেতরে মরদেহ পাওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ উদ্ধার করে। বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে মরদেহ পাঠানো হয়েছে। ওসি মিজানুর রহমান জানান, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। মরদেহের অবস্থা দেখে পুলিশের ধারণা, তিনি শুক্রবার মারা যেতে পারেন।
এ ঘটনার পর তাহমিনার সন্তানদের কেউই সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি। বড় ছেলে সুমনের ফোন সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পরেই বন্ধ হয়ে যায়। তবে বাড়িওয়ালার করা অভিযোগ—তিন মাসে সন্তানরা মাকে একবারের জন্যও দেখতে আসেনি—এই বিষয়টি অনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মৃত্যুর সঠিক সময় ও কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফলে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র জানা সম্ভব হয়নি।
মন্তব্য করুন