
গোড়াশাল পৌরসভার সড়কগুলোর গুরুতর অবস্থা
নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল পৌরসভার সড়কগুলো দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। সড়কগুলো বালিয়ামো থেকে খানেরপুর পর্যন্ত বিস্তৃত এবং আট ইঞ্চি থেকে দেড় ফুট পর্যন্ত গভীর গর্ত তৈরি করছে। সামান্য বৃষ্টিয়ের পর এই গর্তগুলো পানি সংরক্ষণ করে ছোট পুকুরে পরিণত হয়। এই দুর্ভোগের প্রভাব সড়কের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়—অন্যান্য বেশ কিছু সড়ক যেমন ঘোড়াশাল বাজার সড়ক, ঘোড়াশাল পোস্ট অফিস সড়ক, পাইকশা থেকে বালুরচর পাড়া সড়ক, ঘোড়াশাল বাইপাস থেকে মিয়াপাড়া সড়ক, ঘোড়াশাল থেকে পলাশ বাজার সড়ক, পাইশকা মোড় এবং কামারটেকগামী সড়কগুলোতেও নিয়মিত যাতায়াত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
অঞ্চলটিতে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ, ঘোড়াশাল-পলাশ সার কারখানা এবং দেশবন্ধু সুগার মিলসযুক্ত শিল্প প্রতিষ্ঠানের ভারী পণ্যবাহী যানবাহন নিয়মিত চলাচল করে। এই দুর্ভোগের কারণে পণ্য পরিবহন বাধাগ্রস্ত হয়ে পড়ে এবং আটকে যাওয়া বা ছোট-বড় দুর্ঘটনাও ঘটছে।
পৌরসভার বাসিন্দারা এই অবস্থাকে গুরুতর মতো মতবাচক বলে দেখছে। পাইশকা গ্রামের বাসিন্দা এস কে দেবনাথ সমির বলেন, সড়কগুলোর করুণ অবস্থা স্বীকার করলেও সংস্কারের কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ পাবে নেই। খানখান্দে চাকা আটকে গাড়ি উল্টে চালক ও যাত্রীরা প্রায়ই আহত হচ্ছেন। টেঙ্গরপাড়া গ্রামের নাজরুল ইসলাম খান বলেন, বালিয়া থেকে ফৌজী রাস্তা হয়ে পলাশ রাস্তার একাধিক অংশে বড় বড় গর্তের কারণে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
পৌরসভার প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী কাজী মো. আবু ওবায়েদ জানেন, পৌরসভার মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী একটি পরিকল্পিত ও টেকসই ড্রেনেজ ও রাস্তা নেটওয়ার্ক তৈরির প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তিনি আশা করছেন আগামী ছয় মাসের মধ্যে সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।
ঘোড়াশাল পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত প্রশাসক ও পলাশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, পুরো পৌরসভার একটি মাস্টারপ্ল্যান করা হচ্ছে এবং প্রায় ৫০ কোটি টাকার একটি ডিপিপি (DPP) স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হচ্ছে। তিনি বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য বর্তমানে ওই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকায় প্রকল্পটি দ্রুত অনুমোদনের সম্ভাবনা থাকে।
তবে প্রকল্পের অনুমোদন পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদী কথা বললে কিছু সত্যকে নির্ভর করে বলা হয়। পৌরসভার সংসদ সদস্য বর্তমানে ওই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকায় প্রকল্পটি দ্রুত অনুমোদন পাওয়া সম্ভব হবে। এই প্রকল্পটি সম্পন্ন হয়ে রাস্তাঘাট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধান করা যায়।
মন্তব্য করুন