
মেট্রোরেল প্রকল্পে চারটি নির্মাণ প্যাকেজের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর এবং গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত মেট্রোরেল প্রকল্পের চারটি গুরুত্বপূর্ণ নির্মাণ প্যাকেজের চুক্তি শুক্রবার স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির আওতায় মোট আটটি স্টেশন রয়েছে।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানা হয়েছে যে, বাংলাদেশ সরকার ও জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) যৌথ অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্প দুটির অবকাঠামো উন্নয়নে এই চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। মেট্রোরেল সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেছেন, রাজধানীর যানজট নিরসন ও যাতায়াতের সময় কমানো বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। আধুনিক, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। নির্মাণকাজে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও গুণগত মান নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কোনো আপস করা যাবে না এবং নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ করতে হবে যাতে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ভোগান্তি দীর্ঘায়িত না হয়।
এমারেটার লাইন-১ ও এমারেটার লাইন-৫ প্রকল্পের চারটি নির্মাণ প্যাকেজের চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। এমারেটার লাইন-১ প্রকল্পের মধ্যে প্রথম সংশোধনীতে ব্যয় বাড়ানোর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং এটি ১১৭ দশমিক ৬৪ শতাংশে দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি ঢাকার উত্তরার দিয়াবাড়িতে এমারেটার দিয়াবাড়িতে মেট্রোরেল ভবনের সম্মেলন কক্ষে স্বাক্ষরিত হয়েছে। একই সঙ্গে গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত মেট্রোরেল প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধনীতে ব্যয় বাড়ানোর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং এটি ১১৭ দশমিক ৮৭ শতাংশে দেওয়া হয়েছে।
চুক্তি স্বাক্ষর সেভার অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মোহাম্মদ জিয়াউল হক বলেন, “রাজধানীর যানজট নিরসন ও যাতায়াতের সময় কমানো বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্য অর্জনে আধুনিক, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। নির্মাণকাজের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও গুণগত মান নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কোনো আপস করা যাবে না। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ করতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ভোগান্তি দীর্ঘায়িত না হয়।”
এমারেটার লাইন-১ প্রকল্পের মধ্যে প্রথম নির্মাণ প্যাকেজে কন্ট্রাক্ট প্যাকেজ সিপি-২ অনুযায়ী চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি সিনোহাইড্রো করপোরেশন ও সিনোহাইড্রো ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যুরো অ্যান্ড করপোরেশন যোগ দিয়ে ৪৯টি আধুনিক স্থাপনা নির্মাণ করা হবে। এই কাজের মধ্যে এমারেটার লাইন-১ এর ডিপোর জন্য ওয়ার্কশপ, স্ট্যাবলিং শেড ও অপারেশন ম্যানেজমেন্ট সেন্টার নির্মাণ হবে। দ্বিতীয় নির্মাণ প্যাকেজ সিপি-৭ অনুসারে পাতাল পথ হতে উড়াল পথে ট্রানজিশন পয়েন্ট হিসেবে বালু নদীর শুরু পর্যন্ত ৫.০৭ কিলোমিটার ভায়াডাক্ট এবং তিনটি এলিভেটেড স্টেশন নির্মাণ করা হবে। এই কাজটি চায়না রেলওয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন-ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিডেট-চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপ কোম্পানি (সিআরইসি-এমআইএল-এমবিইসি) দ্বারা যৌথভাবে করা হবে।
এমারেটার লাইন-৫ (নর্দার্ন রুট) প্রকল্পের মধ্যে প্রথম নির্মাণ প্যাকেজ সিপি-২ অনুযায়ী এমারেটার লাইন-৫ এর ডিপোর জন্য প্রশাসনিক ভবন, ‘স্ট্যাবলিং ইয়ার্ড’, ওয়ারহাউজ ও ওয়ার্কশপ শেডসহ অন্য পূর্ণ কাজ করা হবে। এই কাজের জন্য বাংলাদেশের কনকর্ড প্রগতি কনসোর্টিয়াম লিমিডেট ও দক্ষিণ কোরিয়ার হানিল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড যৌথভাবে কাজ করবে। দ্বিতীয় নির্মাণ প্যাকেজ সিপি-৩ অনুসারে হেমায়েতপুর থেকে আমিনবাজার এবং নতুন বাজার থেকে ভাটারা পর্যন্ত মোট ৬.৫০ কিলোমিটার এলিভেটেড রেলওয়ে লাইন নির্মাণ করা হবে। এই প্রকল্পে পাঁচটি এলিভেটেড স্টেশন—হেমায়েতপুর, বালিয়াপুর, বিলামালিয়া, আমিনবাজার ও ভাটারা স্টেশন—নির্মাণ করা হবে। এই কাজটি (সিআরইসি-এমআইএল-এমবিইসি) দ্বারা সম্পাদন করা হবে।
চুক্তি স্বাক্ষর সেভার সময় ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড-ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাওগাতুল আলম এবং পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য কবির আহমদ উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন