
মেহেরপুরের গাংনী পৌরসভায় ১৬ কোটি ২৯ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন পৌর মার্কেটের কাজে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে ঠিকাদারপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে নিম্নমানের উপকরণ দিয়ে কাজ চালিয়ে আসছে, যা মার্কেটের স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তাকে হুমকিতে ফেলেছে। এদিকে, এই অনিয়মের বিষয়ে অসহায়ত্ব প্রকাশ করেছেন পৌরসভার উপসহকারী প্রকৌশলী।
প্রকল্পটি ২০২৪ সালের ১৫ এপ্রিল শুরু হয় এবং ৭ নভেম্বর শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, কারণ মাত্র কয়েক দিন বাকি থাকতেই প্রকল্পটির অগ্রগতি মাত্র ৭৩ শতাংশ। ঠিকাদার হিসেবে কাজ করছে ‘যাকাউল্লাহ অ্যান্ড ব্রাদার্স লিমিটেড’, যদিও প্রকল্পটির সাব-ঠিকাদার হিসেবে ঝিনাইদহের জালাল উদ্দিন কাজ করছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণ কাজ শুরুর পর থেকে নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রভাবশালী মহলের সহযোগিতায় কাজ চালিয়ে যাওয়ায় স্থানীয়রা মাঝে মাঝে কাজে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেও তা সফল হয়নি। তাঁদের দাবি, ঠিকাদারপক্ষের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কারণে পৌর কর্তৃপক্ষও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে সাহস পাচ্ছে না।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও মার্কেটের নির্মাণমান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের আশঙ্কা, নিম্নমানের উপকরণ দিয়ে মার্কেট নির্মাণ করা হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই গুণগত মান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর তদারকি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
গাংনী পৌর বিএনপির সভাপতি মকবুল হোসেন মেঘলা বলেন, সরকারের উন্নয়নমূলক কাজে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার মেনে নেওয়া যায় না। নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের প্রতিবাদ জানিয়ে ইতিমধ্যে কাজের কিছু অংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে। নিম্নমানের উপকরণ দিয়ে নির্মিত সব অংশ ভেঙে পুনরায় কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
গাংনী পৌরসভার উপসহকারী প্রকৌশলী আমিনুল ইসলাম জানান, নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের বিষয়ে ঠিকাদারপক্ষকে একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছে। তবে এরপরও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে তাঁরা অদৃশ্য শক্তির কাছে অসহায় বলে মন্তব্য করেন।
পৌরসভার প্রশাসক মো. মাসুদুর রহমান বলেন, নির্মাণ কাজে কোনো ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি মেনে নেওয়া হবে না। নিম্নমানের উপকরণ অপসারণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ঠিকাদারপক্ষ নির্দেশনা অমান্য করলে তাঁদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে পৌর মার্কেটের সাব-ঠিকাদার ঝিনাইদহের জালাল উদ্দিনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
মন্তব্য করুন