
বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর মরদেহ দাফনকে কেন্দ্র করে পিরোজপুরে উত্তেজনা ও তারপর পারিবারিক সদস্যদের হুমকি পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মরহুমের বোন হেনা বেগম গত বুধবার আতঙ্ক ও হুমকির কারণে আপনার আবাসিক এলাকা চিতলিয়া ছেড়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন। এর আগে তাঁর নিকটাত্মীয়রা ও নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করে এলাকা ত্যাগ করেছেন বলে স্বজনরা দাবি করেছেন।
মানিক পশারী একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেন। গত ২৪ অক্টোবর গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর দিন পিরোজপুরে গার্ড অব অনার ও দাফনকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছিল। স্থানীয় কয়েকজন ও জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা পিরোজপুরে দাফন না করার দাবি জানিয়েছিল। পরিস্থিতি বিগড়লে রাতে পুলিশ পাহারার মধ্যে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
দাফনের পর হেনা বেগম বিভিন্ন মিডিয়ায় বাধা দেয়ার জন্য জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের নাম উল্লেখ করে বক্তব্য দেন। তারপর থেকে মোবাইল ফোনে ও সরাসরি তাঁকে নানা ধরনের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। হেনা বেগম মোবাইল ফোনে বলেন, রাতে ঝুপড়িঘরে থাকতে ভয় পাচ্ছেন। প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা চেয়ে এলাকা ছেড়ে যাচ্ছেন।
মরহুমের ভাই পান্না পশারী অভিযোগ করেছেন, ২৪ অক্টোবর দুপুরে পিরোজপুরের পুরান বাসস্ট্যান্ড এলাকায় যাওয়ার সময় তাঁকে হুমকি দিয়ে ফেরিয়ে দেওয়া হয়। ভাইয়ের জানাজা ও দাফনে অংশ নিতে এসে হুমকির মুখে পিরোজপুর ছেড়ে যেতে হয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন।
অন্যদিকে, জিয়ানগর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির আলী হোসেন সকল অভিযোগ বাতিল করেছেন। তিনি বলেন, দলের পক্ষ থেকে মানিক পশারীর কোনো স্বজনকে হুমকি দেওয়া বা হয়রানি করা হয়নি।
পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম জানান, দাফনের পর এলাকায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত। পুলিশ ও গ্রাম পুলিশ নিয়মিত খোঁজখবর রাখছেন। পরিস্থিতির ওপর নজরদারি চলছে।
মন্তব্য করুন