
শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার নন্নী গ্রামটি বায়োগ্যাস পল্লীর একটি অনন্য উদাহরণ হিসেবে পরিচিত হচ্ছে। গরুর গোবর থেকে উৎপন্ন গ্যাসের মাধ্যমে রান্না এবং জ্বালানী প্রদানের এই পদ্ধতিটি গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবনযাত্রাকে নতুন পরিচয় দিচ্ছে।
শেরপুর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, নন্নী ইউনিয়নের নন্নী ডেকরাপাড়া গ্রামে এই বিষয়টি সক্রিয় হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ৪৫ বয়স্ক আবুল কালাম আজাদ তার ৬টি গরুর গোবর দিয়ে প্রতিদিন যত গ্যাস তৈরি করেন, সেগুলো তাদের দুটি পরিবারের রান্নার চাহিদা মিটিয়ে দেয়। এই পদ্ধতির ফলে প্রতি মাসে প্রায় ৪ হাজার টাকার আর্থিক সাশ্রয় ঘটছে। একইভাবে, নিরাপত্তা শিক্ষক মো. নজরুল ইসলামের কথা বলা হয়েছে যিনি তাদের ৩টি গরুর গোবর থেকে গ্যাস উৎপাদন করেন। তিনি স্বামী-স্ত্রী দুজনের চাকরি করার পরিস্থিতিতে এই ব্যবস্থায় অত্যন্ত সুবিধা দিয়েছেন। গবর উৎপাদনের সহজতা এবং মাসিক সিলিন্ডার গ্যাস কয়ে বর্জন করার ফলে বছরে প্রায় ২৫ হাজার টাকা সাশ্রয় হচ্ছে এবং প্রতি মাসে প্রায় ২ হাজার টাকার ব্যয় স্পন্দিত হচ্ছে।
স্থানীয় মাত্রা অনুযায়ী, নন্নী ইউনিয়নের প্রায় ৫০টি পরিবার এখন বায়োগ্যাস ব্যবহার করছেন। এই পদ্ধতিটি গ্রামাঞ্চলের জন্য খুব উপকারী হিসেবে গণ্য হচ্ছে। তথ্য অনুযায়ী, শেরপুর জেলার ৫টি উপজেলায় মোট ৩০টি বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপন করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। শেরপুর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. হারুনর রশীদ এই প্রকল্পটিকে জ্বালানী গ্যাসের চাহিদা মেটানোর একটি উপায় হিসেবে উন্মোচিত করেছেন, যা গ্রামীণ এলাকার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন