
ন্যূনতম মজুরির দাবিতে শ্রমিক অসন্তোষের প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কারখানা ও শিল্পকারখানা সচল রাখতে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। একই সঙ্গে জননিরাপত্তা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতেও সংশ্লিষ্টদের বলেছেন।
গতকাল রাজধানীর সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে প্রায় দেড় ঘণ্টার একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে শ্রম ও প্রবাসী কল্যাণবিষয়ক মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, প্রধানমন্ত্রী কারখানা সচল রাখা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছেন। শ্রমমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন যে কলকারখানা ও শিল্পকারখানা যেন সঠিকভাবে চলে এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা থাকে, সকলে সজাগ থাকবেন। এই ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে তিনি বলেছেন।
রাজধানীর মিরপুর, সাভারের আশুলিয়া এবং গাজীপুরের কালিয়াগঞ্জ এলাকায় ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে সকাল থেকেই শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ শুরু হয়। মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ পরে মিরপুর ১১, ১২ ও আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ শুরু হয়, যা দুপুর ২টা পর্যন্ত চলে। এ সময় পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। একই সময়ে গাজীপুর, ঢাকার সাভার ও আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চলে বিক্ষোভ, অবরোধ ও গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে।
এই অসন্তোষের প্রেক্ষাপটে রাজধানীর মিরপুর, সাভারের আশুলিয়া ও গাজীপুরের কালিয়াগঞ্জ এলাকার প্রায় ৩০০টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ, শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন এবং বিএনপির শ্রমিক সংগঠন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস।
মন্তব্য করুন