
শেখ হাসিনার বেঁচে থাকা পর্যন্ত দেশে অস্থিতিশীলতার আশঙ্কা: উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান
শেখ হাসিনা বেঁচে থাকা পর্যন্ত দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা হতে পারে—এই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। সচিবালয়ে মঙ্গলবারের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে পোশাকশিল্পের শ্রমিক অসন্তোষের পেছনে রাজনৈতিক ইंधনের প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন।
উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক দল হিসেবে কিছু করতে পারবে, সে বিষয়ে সরকার বিশ্বাস করে না। তবে তাদের কাছে লুটের টাকা-পয়সা থাকায় তারা কোথাও না কোথাও কোনো ফরম্যাটে টাকা খরচ করে নাশকতার চেষ্টা করতে পারে। শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সাথে শ্রমিক বিক্ষোভের সম্পর্ক আছে কি না—এই প্রশ্নের জবাবে তিনি গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যকে উল্লেখ করে বলেন, এর সঙ্গে যোগসূত্র থাকতে পারে। তবে ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার ফেরার পথ তৈরি করার জন্য এই অস্থিরতা হচ্ছে, সেই ধারণা সরকারের নেই এবং ব্যক্তিগতভাবে উপদেষ্টাও তা বিশ্বাস করেন না।
পোশাকশ্রমিকদের মজুরি কাঠামো নিয়ে জাহেদ উর রহমান জানান, সাধারণত পাঁচ বছর পর পর মজুরি বোর্ড পুনর্গঠন হয়। ২০০৬, ২০১০, ২০১৩, ২০১৮ এবং ২০২৩ সালে এটি পুনর্গঠিত হয়। তারপর ২০২৬ সালে এর সময় ছিল না। তবে শ্রমিকদের জীবনযাত্রার খরচ, মূল্যস্ফীতি এবং জ্বালানির দাম বাড়ার বিষয়টি অনুধাবন করে সরকার নির্ধারিত সময়ের আগেই মজুরি কমিশন গঠন করেছে। উপদেষ্টা আরও বলেন, গার্মেন্টস কর্মীদের জীবন কঠিন হয়ে উঠেছে, এতে ভুল নেই। কিন্তু সরকার আগেই কমিশন গঠন করায় আন্দোলনের মূল দাবি সেখানে শেষ হওয়ার কথা ছিল। দাবি পূরণের পরেও সহিংসতা অব্যাহত থাকলে তা সাধারণ আন্দোলন নয়, পেছনে অন্য কোনো ইंधন কাজ করছে—এই মন্তব্য তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের আলোতে করেন।
অন্যদিকে, ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে মঙ্গলবার রাজধানীর মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের পুলিশের সাথে ব্যাপক সংঘর্ষ ঘটে। সকাল সाढে ১০টার দিকে মিরপুর-১১ মেট্রো স্টেশনের নিচে পুলিশ ও শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে। পরে শ্রমিকরা কালশী মোড় এলাকায় গিয়ে নতুন করে পুলিশের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
গত বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া শ্রমিক বিক্ষোভ শনিবার রাস্তায় নেমে আসে। রোববার মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় যানবাহনে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে এবং পুলিশ কয়েকজনকে আটক করে। সোমবার পুলিশ কঠোর অবস্থান নিয়ে শ্রমিকদের রাস্তায় নামতে বাধা দেয় এবং মিরপুর-২ ও ১৪ নম্বর এলাকায় টিয়ারশেল ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে। মঙ্গলবার আবার রাজপথে নেমে শ্রমিকরা সংঘাতে জড়িয়ে পড়লে শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়।
মন্তব্য করুন