৭ নভেম্বর ২০২৬, ৯:০৮ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক এবং নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। মহান জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের উপলক্ষে শুক্রবার ৬ নভেম্বর সন্ধ্যায় প্রচারিত এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, এই দিবসটি বাংলাদেশের ইতিহাসে অপরিসীম গুরুত্বপূর্ণ দিন।

তিনি ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার যুগান্তকারী বিপ্লবের স্মরণে অংশগ্রহণকারী বীর সেনানী ও দেশপ্রেমিক জনতার বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। ঐতিহাসিক এই দিনটি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব পুনরায় ফিরে আসার মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ঐক্যবদ্ধ সিপাহি-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে দেশ নায়বার্তা ও সার্বভৌমত্ব প্রাপ্ত হয়েছে। এই সময়ে নগোতর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বন্দিদশার মুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।

রাষ্ট্রপতি বলেন, কঠিন সময়ের মধ্যে সিপাহি ও জনতার সংহতি ছিল স্বাধীনতার চেতনায় উজ্জীবিত এক অভূতপূর্ব জাগরণ। দীর্ঘ ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটাতে ছাত্র-ছাত্রী, নারী-পুরুষ এবং সশস্ত্র বাহিনীর সুদৃঢ় ঐক্য প্রত্যাশিত হয়েছে। এই ধারাবাহিকতার পুনর্জাগরণ ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ঘটেছে।

বাণীতে রাষ্ট্রপতি জাতীয় জীবনে ৭ নভেম্বরের বিপ্লব ও সংহতির গুরুত্ব অপরিসীম বলে উল্লেখ করেন। তিনি জিয়াউর রহমান দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র, আইনের শাসন, বাক ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবে বলে বহাল করেছেন। এছাড়া অর্থনৈতিক মুক্তি, সামাজিক শান্তি, সুশাসন এবং বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথটি তাঁর কৌশলের অংশ।

তিনি বারবার ঘোষিত গণতন্ত্র ভূলুণ্ঠিত হওয়া ও ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের প্রতি সমালোচনা করেন। একটি নির্বাচিত সরকারের নেতৃত্বে দেশ আবার গণতন্ত্রের পথে পুনরায় যাত্রা শুরু করেছে। এই অগ্রযাত্রাটি থামাতে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসহ রাষ্ট্রের প্রতিটি সংস্থাকে শক্তিশালী করা অপরিহার্য বলে তিনি জোর দিয়েছেন।

জাতীয় সমস্যाओਂের সমাধানে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আলোচনা এবং জাতীয় সংসদকে কেন্দ্রবিন্দুতে রাখার আহ্বানে রাষ্ট্রপতি বলেন। ৭ নভেম্বরের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে দেশ ও জনগণের স্বার্থে “সবার আগে বাংলাদেশ” দর্শনের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালিত হওয়া উচিত। জাতীয় স্বার্থ, সাম্য, ন্যায়তাবদ্ধতা ও গণতন্ত্রচর্চাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া অপরিহার্য।

বাণীর শেষাংশে রাষ্ট্রপতি বলেন, স্বাধীনতা রক্ষা এবং ৭ নভেম্বরের চেতনার মাধ্যমে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে দুর্নীতি, বৈষম্য ও সব ষড়যন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক এবং নিরাপদ বাংলাদেশ তৈরি করতে হবে। এই কথাগুলো তিনি গৃহীত কাজের সার্বিক সাফল্যের কামনা করে বলেছেন।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

অভিশংসনের পরই গৃহবন্দি প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট

১

খাগড়াছড়িতে দুর্বৃত্তের আগুনে পুড়ল বিআরটিসি বাস

২

মানবপাচার চক্র নির্মূলে টেকনাফে আবারও যৌথ বাহিনীর অভিযান

৩

শাহজালাল বিমানবন্দর এলাকায় পরপর ককটেল বিস্ফোরণ

৪

আনোয়ার খান মডার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে আলোচনা সভা

৫

গ্রাম পুলিশের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির ঘোষণা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

৬

জামালপুরে ট্রাক চাপায় একই পরিবারের তিনজনসহ নিহত ৪

৭

জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা

৮

মৌলভীবাজারে ২০ জনকে পুশ-ইনের চেষ্টা বিএসএফের, বিজিবির বাধায় ব্যর্থ

৯

দেশের চিকিৎসা সরঞ্জাম খাতে ৯ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্যের সুযোগ

১০

প্রজন্মের ভবিষ্যত ডুবে যাচ্ছে মাদকের অন্ধকারে

১১

নোয়াখালী রুটে যুক্ত হবে নতুন ট্রেন, সংস্কার হচ্ছে রেলপথ

১২

সাগরের বুকে মিশেছে পাহাড়ি জলধারা, মুগ্ধ ইনানীর নিভৃত সৌন্দর্য

১৩

জিয়াউর রহমানের সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন

১৪

‘সরকার বলে কি আসলেই কোনো ব্যবস্থা দেশে আছে? জামায়াত আমির

১৫

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী

১৬

৭ নভেম্বর স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের অঙ্গীকার: রিজভী

১৭

মার্কিন গণমাধ্যমে গুরুত্ব পাচ্ছে এল-সায়েদের বক্তব্য

১৮

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৮ পদে চাকরির সুযোগ

১৯

মুসলমানদের হাত ধরেই রচিত হয় কফি আবিষ্কারের গল্প

২০